আগৈলঝাড়ায় ব্রিজে রডের বদলে বাঁশ: সত্যতা পেয়ে ঢালাই ভাঙার নির্দেশ
মোঃ নাজমুল হক নয়ন, স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল |
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় একটি আয়রন ব্রিজের ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহারের চাঞ্চল্যকর ঘটনার সত্যতা পেয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলা প্রকৌশলী সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পর জনস্বার্থে ব্রিজটির ঢালাই ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন।
উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের দুশমী-করিমবাজার খালের ওপর রুহুল আমিনের বাড়ির সামনে নির্মিত ব্রিজটিতে অনিয়মের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান।
পরিদর্শনকালে স্থানীয় শতাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ব্রিজের ঢালাই কাজ চলাকালে উত্তর পাশের শেষ অংশে রডের সঙ্গে বাঁশের কঞ্চি সংযুক্ত করে ঢালাই দেওয়া হয়। অভিযোগ ওঠে, সংশ্লিষ্ট ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রকৌশলী ঘটনাস্থলে অনিয়মের প্রমাণ পান।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. হিমু মোল্লা ও ইদ্রিস মোল্লাসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ব্রিজ নির্মাণে একাধিক নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে। খালটির প্রস্থ ৫৫ ফুট হলেও ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে মাত্র ৪৫ ফুট। নিয়ম অনুযায়ী ৮ ইঞ্চি ও ৬ ইঞ্চি পরপর রড দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছে ১ ফুট পরপর। ৫ ইঞ্চি ঢালাইয়ের পরিবর্তে দেওয়া হয়েছে মাত্র সাড়ে ৩ ইঞ্চি। ঢালাইয়ের শেষ পর্যায়ে রড শেষ হয়ে গেলে রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করা হয়। স্থানীয়রা বাধা দিলে মাত্র পাঁচটি রড এবং এলাকাবাসীর টাকায় পাঁচ ব্যাগ সিমেন্ট এনে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করা হয়।
আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বনিক জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানার পরই তিনি ব্যবস্থা নিয়েছেন। তিনি বলেন,
“ব্রিজের স্ট্রাকচারটি বিগত অর্থবছরে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে হয়েছিল, কিন্তু ঢালাইয়ের কোনো বরাদ্দ বা অনুমোদন এ বছর দেওয়া হয়নি। জনৈক ইউপি সদস্য নিজ উদ্যোগে এলাকাবাসীকে নিয়ে এই ত্রুটিপূর্ণ ঢালাই দিয়েছেন। প্রকৌশলী জানিয়েছেন, বাঁশ ব্যবহারের কারণে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তাই ঢালাই ভেঙে সরকারি নিয়ম মেনে নতুন করে ব্রিজটি নির্মাণ করা হবে।”
ইউএনও আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে উপজেলার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, সরকারি অনুমোদন ও বরাদ্দ ছাড়াই ইউপি সদস্য কেন তড়িঘড়ি করে এবং কেনই বা বাঁশের কঞ্চি দিয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিজের ঢালাই করা হলো—তা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।