
রাজধানীতে জ্বালানি সংকটে চরম ভোগান্তিতে চালকরা সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীতে জ্বালানি তেল সংগ্রহে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যানবাহন চালকরা। অনেক ফিলিং স্টেশনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বরং দিন দিন ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি আরও বেড়েছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর পরীবাগ, আগারগাঁও ও আসাদগেট এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, পেট্রলপাম্পগুলোর সামনে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়েছে। অনেক স্থানে সেই সারি আশপাশের অলিগলিতেও ছড়িয়ে পড়ে যানজটের সৃষ্টি করেছে।
সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় অনেক চালক আগেভাগে এসে লাইনে দাঁড়ান। কেউ কেউ আবার বৃহস্পতিবার রাত থেকেই অপেক্ষা করছেন। তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও অনেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি পাচ্ছেন না বলে জানান।
চালকদের অভিযোগ, রাজধানীর একাধিক ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এতে যানবাহন চলাচলে ভোগান্তি বাড়ছে এবং সড়কে যানজটও সৃষ্টি হচ্ছে।
এক মোটরসাইকেল চালক সজিব বলেন, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও অনেক সময় তেল পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে সময় নষ্ট হচ্ছে এবং যাত্রীসেবা ব্যাহত হচ্ছে।
আরেক চালক হসিবুল অভিযোগ করে বলেন, “মন্ত্রী বলছেন দেশে পর্যাপ্ত তেল আছে, কিন্তু পাম্পে গিয়ে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। তাহলে তেল যাচ্ছে কোথায়? বাস্তবে আমরা কোনো সুবিধাই পাচ্ছি না।”
এদিকে রাজধানীর কিছু ফিলিং স্টেশনে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ চালু থাকলেও তা কার্যকর নয় বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবহারকারীরা। অনেকেই লগইন ও পাসওয়ার্ড সমস্যার কারণে সেবা নিতে পারছেন না।
নোমান নামে আরেক চালক জানান, অ্যাপ ব্যবহার করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন এবং নির্ধারিত কোটা ছাড়া পাম্পে জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে না।
অন্যদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে জ্বালানি তেলের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে পেট্রল ও অকটেনের ক্ষেত্রে চাপ বেশি পড়ছে। এতে সারা দেশে সরবরাহ ব্যবস্থায় ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়েছে।
এর আগে ফেব্রুয়ারিতে ইরানে হামলার পর থেকেই জ্বালানি নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়। মার্চের শুরুতে পেট্রল ও অকটেনের বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। পরে সরকার রেশনিং ব্যবস্থা চালু করলেও পরবর্তীতে তা তুলে নেওয়া হয়। বর্তমানে সরবরাহ ব্যবস্থা গত বছরের বিক্রির ভিত্তিতে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।