
ডেস্ক রিপোর্ট:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি খাতে ভয়াবহ ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গবেষণা ও জ্বালানি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান রিস্টাড এনার্জি জানিয়েছে, ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অঞ্চলজুড়ে তেল ও গ্যাস অবকাঠামোর ক্ষতি ও পুনর্গঠন ব্যয় ৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তেল ও গ্যাস স্থাপনা, যার একক খাতেই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার। মাত্র তিন সপ্তাহ আগেও এই ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব ২৫ বিলিয়ন ডলার ধরা হলেও তা এখন দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রিফাইনিং ও পেট্রোকেমিক্যাল খাত পুনর্গঠনে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হবে। এসব স্থাপনার জটিল অবকাঠামো ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে ব্যয় ও সময় দুটোই বেড়ে গেছে। এছাড়া বিদ্যুৎ, শিল্প ও পানি শোধন খাতে আরও ৩ থেকে ৮ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ব্যয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
মোট পুনর্গঠন ব্যয় প্রায় ৪৬ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দেশভেদে ক্ষতির মাত্রা ভিন্ন। ইরানের গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ, রিফাইনিং ও রফতানি অবকাঠামো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার পুনর্গঠন ব্যয় প্রায় ১৯ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। অন্যদিকে কাতারের ক্ষতি তুলনামূলক কম হলেও রাস লাফান শিল্প এলাকায় উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর মেরামতের প্রয়োজন হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পুনর্গঠন কার্যক্রম নতুন উৎপাদন সক্ষমতা সৃষ্টি করবে না, বরং বিদ্যমান সক্ষমতা পুনরুদ্ধারে ব্যয় হবে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব, যন্ত্রপাতি ও দক্ষ জনবল সংকট এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বিনিয়োগে চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।