
স্টাফ রিপোর্টার, বান্দরবান | সুকেল তঞ্চঙ্গ্যা
ভোর থেকে গভীর রাত—দুর্গম পাহাড়ি জনপদ থেকে শহরের অলিগলি পর্যন্ত চলছে নিরবচ্ছিন্ন প্রচারণা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বান্দরবান-৩০০ আসনের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় এখন ধানের শীষের জয়ধ্বনি শোনা যাচ্ছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরি ব্যস্ত সময় পার করছেন ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় ও কুশল বিনিময়ে।
প্রচারণাকালে সাচিং প্রু জেরি বলেন, “পাহাড়ের মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। তারা চায় শান্তি, সম্প্রীতি এবং প্রকৃত উন্নয়ন। গত কয়েক বছরে বান্দরবানের মানুষ যে অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হয়েছে, নির্বাচিত হলে আমি সেই ব্যবধান দূর করতে কাজ করব। বান্দরবানকে একটি আধুনিক ও স্মার্ট পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”
তিনি জানান, তার নির্বাচনী প্রচারণায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্গম এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তার নিয়মিত মাঠপর্যায়ের উপস্থিতিতে স্থানীয় নেতাকর্মীরাও উজ্জীবিত হয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় অনেক ভোটার জানান, বান্দরবান-৩০০ আসনে তারা এমন একজন প্রতিনিধিকে চান, যিনি সবসময় মানুষের পাশে থাকবেন। তাদের মতে, সাচিং প্রু জেরির দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তাকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে রেখেছে।
এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) নির্বাচনে অংশ না নেওয়া এবং কয়েকটি দলের প্রার্থীর সরে দাঁড়ানোর কারণে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তুলনামূলকভাবে সীমিত হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। ফলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাচিং প্রু জেরি নির্বাচনী দৌড়ে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের দাবি, সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত হলে বান্দরবান-৩০০ আসনে ধানের শীষের জয় নিশ্চিত হবে। এখন দেখার বিষয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পাহাড়ের ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেন।