রামপালে ভুয়া ফেসবুক আইডিতে অপপ্রচার — সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ, দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি
আরিফ হাসান গজনবী
রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় সিনিয়র সাংবাদিক মোতাহার হোসেন মল্লিকের নাম ও ছবি ব্যবহার করে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে পরিকল্পিত অপপ্রচারের অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সম্মানহানি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ২৪ এপ্রিল বিকেল আনুমানিক ৫টা ৬ মিনিটে ওই ভুয়া আইডি থেকে বাঁশতলী ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী সোহেল তাজের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়। পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ১১টায় রামপাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা একে “সাংবাদিকতা ও সামাজিক শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত সাইবার সন্ত্রাস” বলে আখ্যায়িত করেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রামপাল উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মল্লিক জিয়াউল হক, সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী সোহেল তাজ, সিনিয়র সাংবাদিক মোতাহার হোসেন মল্লিকসহ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
লিখিত বক্তব্যে মোতাহার হোসেন মল্লিক বলেন, একটি কুচক্রী মহল দীর্ঘদিন ধরে তার পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া ফেসবুক আইডির মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি গত ২ মার্চ ২০২৬ তারিখে রামপাল থানায় ৯৬ নম্বর সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এরপরও অপতৎপরতা বন্ধ হয়নি।
তিনি বলেন, “আমার নাম ও ছবি ব্যবহার করে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা শুধু আমার ব্যক্তিগত সম্মানহানিই নয়; বরং সমাজে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা সৃষ্টির একটি গভীর ষড়যন্ত্র। এর মাধ্যমে সুনামধন্য ব্যক্তিদের হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরও বলেন, সোহেল তাজ দীর্ঘদিন ধরে এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত। যুব সমাজকে মাদক ও জুয়ার মতো সামাজিক ব্যাধি থেকে দূরে রাখতে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং গিলাতলা বাজারে যাত্রী ছাউনি নির্মাণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে। এমন একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।
বক্তারা অবিলম্বে দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। মোতাহার হোসেন মল্লিক প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সাইবার অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। যারা এই নোংরা কাজে জড়িত, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে এ ধরনের অপরাধ আরও বাড়বে।”
তিনি সাধারণ মানুষকে গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে যাচাই-বাছাই করে তথ্য শেয়ার করার আহ্বান জানান। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডির মাধ্যমে অপপ্রচার এখন গুরুতর সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার করা জরুরি।