বিএনপি নেতাকে চাঁদা না দেওয়ায় ইজারাদারের ওপর হামলা, বাজার দখলের অভিযোগ
ফরহাদ হোসেন রাজ, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের হারেঞ্জা গ্রামের প্রায় ৩০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী গরু বাজার দখলকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে। চাঁদা না দেওয়ায় বাজারের ইজারাদার পায়েল আহমেদের ওপর হামলা চালিয়ে জোরপূর্বক বাজার দখল করে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে এবং গরু ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের হারেঞ্জা গরু বাজারটি প্রায় ৩০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিবছর উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ওপেন ডাকে ইজারা প্রদান করা হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য সরকারি দরমূল্য ১৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হলে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে পায়েল আহমেদ ৩৮ লাখ টাকা বিট করে প্রাথমিকভাবে বাজারটির ইজারা পান।
অভিযোগ রয়েছে, বাজার বুঝে পাওয়ার পর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এআই খান শিপলু, কামাল মেম্বার, কাশেম মাল, ওমর মেম্বার ও নজরুল সিকদারের নেতৃত্বে একটি মহল ইজারাদার পায়েল আহমেদের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর হামলা চালিয়ে জোরপূর্বক ইজারাকৃত বাজার দখল করে নেওয়া হয়।
ইজারাদার পায়েল আহমেদ বলেন, “আমি সরকারি বিধি মোতাবেক ওপেন ডাকে বাজারটি পেয়েছি। ২০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় শিপলুর নেতৃত্বে আমাকে মারধর করে বাজার দখল করে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি থানায় জানিয়েছি, কিন্তু কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।”
একজন গরু ব্যবসায়ী জানান, “আমি বাজারে গরু নিয়ে যাওয়ার সময় মারপিট শুরু হলে আমাকে বাজারে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পরে গরু নিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হয়েছে।”
আরেকজন ভুক্তভোগী বলেন, “আমি বাজারের রশিদ কাটতে গেলে তারা আমাকে মারধর করে প্রায় ২০ হাজার টাকা নিয়ে যায় এবং বাজারে আসতে নিষেধ করে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা জানান, উপজেলা চত্বরে ওপেন ডাকে প্রাথমিকভাবে পায়েল আহমেদ হারেঞ্জা গরু বাজারের ইজারা পেয়েছেন।
এদিকে স্থানীয় জনগণ ও সচেতন মহল ঐতিহ্যবাহী এ গরু বাজার রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলামকে জানানো হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
সাধারণ গরু ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে নির্ধারিত ইজারাদারের কাছে বাজারটি বুঝিয়ে দেওয়া হোক।