বরিশালে পুলিশের ২০ টন রেশনের চাল আটক: চরমোনাই মাদ্রাসায় নেওয়ার অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল:
বরিশালে জেলা পুলিশের জন্য বরাদ্দকৃত রেশনের চাল পাচারের অভিযোগে ২০ মেট্রিক টন চাল স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, খাদ্য গুদাম থেকে চাল ট্রাক্টরে করে চরমোনাই মাদ্রাসায় নেওয়া হচ্ছিল। তবে পুলিশের নথিপত্রে ১২ টন চাল বিক্রির কথা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে ট্রাকে ছিল ২০ টন চাল।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুর পৌনে ২টার দিকে বরিশাল খাদ্য গুদাম থেকে ৫০ কেজি ওজনের ৪০০ বস্তা চাল নিয়ে একটি ট্রাক্টর চরমোনাই মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সদর উপজেলার একটি সড়কে চালকের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা ট্রাক্টরটি থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
এ সময় ট্রাকচালক জেলা পুলিশের একটি সরকারি বরাদ্দপত্র (ডিও) প্রদর্শন করেন। সেখানে লেখা ছিল—
“আমি এএসআই (নিঃ) মোশারেফ হোসেন, মেস ম্যানেজার, জেলা পুলিশ লাইন, বরিশাল। পুলিশ সদস্যদের বাজার খরচ বাবদ ১২ টন চাল বিক্রি করিলাম, চরমোনাই মাদ্রাসায়।”
কিন্তু বরাদ্দপত্রে ১২ টন উল্লেখ থাকলেও ট্রাকে থাকা ৪০০ বস্তা চালের মোট ওজন দাঁড়ায় ২০ মেট্রিক টন। অর্থাৎ নথির চেয়ে অতিরিক্ত ৮ টন চাল পাচারের অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাস্থলে থাকা এক পুলিশ সদস্য (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) সাংবাদিকদের জানান, রেশন স্টোর ইনচার্জ এসআই মনির ও মেস ম্যানেজার এএসআই মোশারেফ হোসেনের নির্দেশেই তিনি চালের সঙ্গে যাচ্ছিলেন।
তবে রেশন স্টোর ইনচার্জ এসআই মনির দাবি করেন, চাল বিক্রির বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। অন্যদিকে মেস ম্যানেজার এএসআই মোশারেফ হোসেন ফোনে বলেন, “চাল কবে পাঠানো হয়েছে আমি জানি না, খোঁজ নিয়ে জানাচ্ছি।” পরে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
জেলা পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “পুলিশের রেশনের চাল কেনাবেচার কোনো আইনগত সুযোগ নেই। বিষয়টি আগে জানতাম না। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের রেশন শুধুমাত্র সদস্যদের ভোগের জন্য বরাদ্দ থাকে। তা বাজারে বা অন্য প্রতিষ্ঠানে বিক্রি করা সম্পূর্ণ অবৈধ। সরকারি খাদ্যগুদাম থেকে এত বড় পরিমাণ চাল কীভাবে বের হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়া চাল পরবর্তীতে চরমোনাই মাদ্রাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সাংবাদিকদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে, যা নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।