
মোঃ নাজমুল হক নয়ন
স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে কর্মহীন জেলেদের জন্য সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী দুই মাসে প্রত্যেক জেলের ৮০ কেজি চাল পাওয়ার কথা থাকলেও বিতরণ করা হচ্ছে ৭৫ কেজি করে। পাশাপাশি পরিবহন খরচের নামে টাকা আদায়, প্রকৃত জেলেদের বাদ দিয়ে অযোগ্যদের তালিকাভুক্তি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে চাল বিতরণের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ও শনিবার (২৫ এপ্রিল) ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চাল বিতরণের সময় ভুক্তভোগী জেলেরা এসব অভিযোগ তোলেন।
মৎস্য বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তেঁতুলিয়া নদীতে মার্চ ও এপ্রিল—এই দুই মাস ইলিশ অভয়াশ্রম রক্ষায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। এ সময়ে নিবন্ধিত জেলেদের জীবনধারণের জন্য মাসে ৪০ কেজি করে দুই মাসে মোট ৮০ কেজি চাল বরাদ্দ দেয় সরকার।
বাউফল উপজেলার ৬ হাজার নিবন্ধিত জেলের জন্য মোট ৪৮০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়। এর মধ্যে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ১ হাজার ৪৫৫ জন জেলের অনুকূলে বরাদ্দ ছিল ১১৬.৪০০ মেট্রিক টন।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুজন জেলেকে ৫০ কেজির তিনটি বস্তা—মোট ১৫০ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী দুজনের ১৬০ কেজি পাওয়ার কথা থাকলেও প্রত্যেককে ৫ কেজি করে কম দেওয়া হয়েছে।
৮ নম্বর ওয়ার্ডের জেলে নান্নু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“আমাগো দুই মাসে ৮০ কেজি চাউল পাওনের কথা। কিন্তু দিছে ৭৫ কেজি। বাকি চাউল নাকি অন্যদের দিবে।”
একই ধরনের অভিযোগ করেন ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জেলে হেলাল হাওলাদার। তিনি দাবি করেন, ইউপি সদস্য মো. জসিম হোসেন প্রকৃত জেলেদের বাদ দিয়ে তার ভাই ও আত্মীয়স্বজনদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যারা কোনোদিন মাছ ধরার পেশায় ছিলেন না। এছাড়া পরিবহন খরচের নামে প্রত্যেক জেলের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জসিম হোসেন চাল কম দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। অন্যদিকে ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল বশার মৃধার সিদ্ধান্তেই ৫ কেজি করে চাল কম দেওয়া হচ্ছে বলে ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে।
আবুল বশার মৃধা বলেন, বরাদ্দের তুলনায় জেলের সংখ্যা বেশি। তাই সমন্বয়ের জন্য ৫ কেজি করে কম দিয়ে বাকি চাল অন্য জেলেদের দেওয়া হচ্ছে।
চাল বিতরণের সময় নিয়ম অনুযায়ী ট্যাগ অফিসারের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা বাসুদেব সরকার উপস্থিত ছিলেন না। তিনি জানান, সাপ্তাহিক বন্ধের দিন হওয়ায় তিনি থাকতে পারেননি এবং অন্যদিন বিতরণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
পুরো বিষয়টি নিয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন,
“যেটুকু চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেটুকুই বিতরণ করতে হবে। ৫ কেজি করে কম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”