
রাজধানীর পরীবাগে একটি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে ১ হাজার ১১টি যানবাহন। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে সেখানে ৫১৮টি মোটরসাইকেল ও ৪৯৩টি প্রাইভেট কার তেলের অপেক্ষায় ছিল।
একই সময়ে মৎস্য ভবন এলাকার আরেকটি ফিলিং স্টেশনেও প্রায় একই চিত্র দেখা গেছে। সকাল ১০টার দিকে সেখানে ৪২২টি মোটরসাইকেল ও ৩৫৮টি প্রাইভেট কার তেল নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল। যানবাহনের সংখ্যা থেকেই বোঝা যাচ্ছে অপেক্ষার সময় কতটা দীর্ঘ হচ্ছে এবং চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
পরীবাগের মেঘনা মডেল ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য লাইনে থাকা প্রাইভেট কার চালক আখতার হোসেন জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে তিনি লাইনে দাঁড়ান। শুক্রবার বেলা ১১টা পর্যন্তও তিনি তেল পাননি। তিনি বলেন, “তেল না নিলে তো আমাদের চাকরি থাকবে না। তাই কষ্ট হলেও অপেক্ষা করছি। এরপর আবার ডিউটিতে যেতে হবে।”
মৎস্য ভবনের রমনা ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালক সাইফুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা পেরিয়ে গেলেও তেল পাননি। পাম্প কর্তৃপক্ষ তাকে দুপুরের পর তেল পাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। তিনি বলেন, “শুক্রবার ছুটির দিন হলেও পুরো সময় তেল নেওয়ার অপেক্ষায় কাটাতে হচ্ছে। পরিবারকে সময় দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছি না।”
আরেক চালক আবদুর রহিম জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে লাইনে দাঁড়িয়েও শুক্রবার বেলা ১১টা পর্যন্ত তেল পাননি। কখন পাবেন, সেটিও নিশ্চিত নন তিনি।
চালকদের অভিযোগ, সরকার থেকে তেলের সংকট না থাকার কথা বলা হলেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে বাস্তবতা ভিন্ন। তাদের মতে, তেলের জন্য লাইনে দাঁড়ানো যানবাহনের সংখ্যা কমার বদলে দিন দিন বাড়ছে, ফলে ভোগান্তিও বাড়ছে।