অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিবকে ফাঁদে ফেলে অর্ধকোটি টাকা আত্মসাৎ, সিআইডির জালে প্রতারক চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার
জিহাদুল ইসলাম
বিশেষ প্রতিনিধি
চাকরি ও ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের প্রলোভন দেখিয়ে এক অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিবের কাছ থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাৎকারী প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। চক্রটি প্রথমে মোটা অঙ্কের বেতনের চাকরির প্রস্তাব দিয়ে ভুক্তভোগীকে কথিত অফিসে ডেকে নেয়। পরে ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের প্রলোভন দেখিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে ২০ শতাংশ লাভসহ মূলধন ফেরত দেওয়ার মৌখিক চুক্তি করে।
এই প্রলোভনে পড়ে ভুক্তভোগী ধাপে ধাপে মোট ৫৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন। কিন্তু প্রতিশ্রুত সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো লাভ না দিয়ে চক্রটি আরও অর্থ বিনিয়োগের জন্য চাপ দিতে থাকে। এতে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—
১) মো. তোফায়েল হোসেন ওরফে রতন (৬৮), লৌহজং, মুন্সীগঞ্জ
২) মো. লিটন মুন্সী (৬০), মূলাদী, বরিশাল
৩) মো. বাবুল হোসেন (৫৫), গাজীপুর সদর, গাজীপুর
৪) মো. নুরুল ইসলাম (৩৯), মিরপুর-১, ঢাকা
গত ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে তুরাগ (ডিএমপি) থানাধীন দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে সাইবার পুলিশ সেন্টারের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। এসময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৯টি মোবাইল ফোন, ১২টি সিম কার্ড, ৫টি মানি রিসিপ্ট, ২টি বিলের কাগজ ও বিদেশি মুদ্রা জব্দ করা হয়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগী ২০২৪ সালে অতিরিক্ত সচিব পদ থেকে পিআরএল গ্রহণ করেন। ওই বছরের অক্টোবর মাসে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে তাকে রাজধানীর মিরপুরে একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক (এডমিন) পদে নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেখানে উপস্থিত হলে চাকরির পাশাপাশি ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং এক সপ্তাহে ২০ শতাংশ মুনাফার লোভ দেখানো হয়। এর পরপরই চক্রটি কৌশলে ৫৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।
তদন্তে জানা যায়, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অবসরপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের টার্গেট করে রাজধানীর মিরপুর ও উত্তরা এলাকায় অফিস ভাড়া নিয়ে ভুয়া প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে প্রতারণা করে আসছিল।
গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠিয়ে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পূর্বেও প্রতারণাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
সিআইডি জানিয়েছে, অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনে বিনিয়োগের আগে যাচাই-বাছাই করার পাশাপাশি অচেনা নম্বর থেকে চাকরি বা ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের প্রস্তাব পেলে সতর্ক থাকার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে।