
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: ফোরকান উদ্দিন রোমান
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় এসএসসি ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত পরীক্ষাকে ঘিরে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। লিখিত আবেদন করার পরও ৫ জন সাংবাদিককে কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়াকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুমতি বঞ্চিত সাংবাদিকরা হলেন—দৈনিক মানবজমিনের উপজেলা প্রতিনিধি এমএম গউস, কায়েস আহমেদ সালমান, কালবেলা প্রতিনিধি মুজাহিদ মসি, এদিনের প্রতিনিধি ত্রিপুরারি দেবনাথ তিপু এবং দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের প্রতিনিধি ফোরকান উদ্দিন নোমান। তারা গত ৯ এপ্রিল হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অনুলিপি পাঠান। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত কোনো অনুমতি না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
জেলা প্রশাসনের দাবি, পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সাংবাদিকসহ বহিরাগতদের কেন্দ্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং দণ্ডবিধির ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক ও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করছেন সাংবাদিকরা।
তাদের অভিযোগ, “স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের উপস্থিতি জরুরি। সেখানে উল্টো সাংবাদিকদেরই বাইরে রাখা হচ্ছে—এতে কি কিছু আড়াল করার চেষ্টা চলছে?” স্থানীয়দের মাঝেও এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি কায়েস আহমেদ সালমান বলেন, “এটি শুধু অনুমতি না দেওয়ার বিষয় নয়, এটি সরাসরি সাংবিধানিক অধিকারে হস্তক্ষেপ। এতে পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে।”
একই সুরে দৈনিক মানবজমিনের প্রতিনিধি এমএম গউস বলেন, “পরীক্ষা কেন্দ্রে নকল বাণিজ্যের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সেখানে সাংবাদিকদের ঢুকতে না দেওয়া হলে এসব অভিযোগ আরও জোরালো হবে।”
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে—কেন্দ্রে পর্যাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থাকবেন, তাই সাংবাদিকদের উপস্থিতি প্রয়োজন নেই। তবে এ যুক্তিকে মানতে নারাজ সাংবাদিক সমাজ। তাদের মতে, “প্রশাসন ও গণমাধ্যম একে অপরের পরিপূরক—প্রতিদ্বন্দ্বী নয়।”
হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুর রউফ সেলিম বলেন, “সাংবাদিকদের বাদ দিয়ে কোনোভাবেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায় না। নিয়ম মেনেই তাদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল।”
সামগ্রিক পরিস্থিতিতে হবিগঞ্জের সাংবাদিক সমাজ এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রশাসনের দায়িত্বশীল ভূমিকা কামনা করেছে।