
স্টাফ রিপোর্টার: মোঃ আসাদুজ্জামান
বরগুনা সদর উপজেলার ৬ নং বুড়িরচর ইউনিয়নের রায়েরতবক গ্রাম সংলগ্ন কালিরতবক থেকে ফরাজির পোল পর্যন্ত সড়ক সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও সরেজমিন পর্যবেক্ষণে পাওয়া তথ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে একাধিক অনিয়মের চিত্র পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
প্রকল্পটি এলজিইডি (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর) এর অধীনে “Bushbunia UZR – Rayetabak H/S (Cyclone Centre) Road” নামে বাস্তবায়নাধীন। সড়ক কোড নম্বর ৫০৪২৮৪০৫৪।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়কটির কাজ শুরু থেকেই ধীরগতিতে ও দায়সারাভাবে পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরবর্তীতে কাজটি একাধিক পর্যায়ে অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করেছে, যার ফলে কাজের মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী নিম্নলিখিত অনিয়মগুলো পাওয়া গেছে—
১. সড়কের দুই পাশে মাটি ভরাটের বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে কোনো মাটি ভরাট করা হয়নি।
২. এজিংয়ের জন্য ব্যবহৃত ইট নিম্নমানের হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
৩. সিডিউল অনুযায়ী নির্ধারিত মানের পাথর, খোয়া ও বিটুমিন ব্যবহার না করে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় থিকনেস বজায় রাখা হয়নি।
৪. পুরাতন কার্পেটিং সম্পূর্ণভাবে অপসারণ না করেই তার ওপর পাতলা স্তরে পিচ ঢালার অভিযোগ রয়েছে।
৫. প্রকল্প তদারকিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের নিয়মিত ও সরেজমিন উপস্থিতির ঘাটতি রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
৬. কালভার্ট নির্মাণে সিডিউল অনুযায়ী পর্যাপ্ত রড ব্যবহার না করার অভিযোগ উঠেছে, যা ভবিষ্যতে ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
অভিযোগকারী মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, তিনি বহু পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজ এলাকার এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি অনুমোদন করাতে সক্ষম হন। তবে কাজ বাস্তবায়নে শুরু থেকেই অনিয়ম লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি ইতিমধ্যে প্রকল্প পরিচালককে অবহিত করা হলে বরিশাল বিভাগের একজন প্রকৌশলীর মাধ্যমে তদন্ত করা হয় এবং সেখানে কিছু অসঙ্গতি পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তা সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হলেও স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ এখনো দেখা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে কাজের মান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই সড়কটি যদি সঠিকভাবে নির্মাণ না হয়, তবে সরকারি অর্থের অপচয় ঘটবে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি পুনরায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।