
মোঃ আব্দুস ছালাম, আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় আগাম জাতের আমন ধান কাটা-মাড়াই শেষ হতেই কৃষকরা আলু লাগাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মাঠজুড়ে চলছে সেচ দেওয়া, টপ ড্রেসিং, নিড়ানি দেওয়া থেকে শুরু করে সার–কীটনাশক প্রয়োগ—চাষিদের যেন দম ফেলারও সময় নেই।
চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর পোকা–মাকড়, ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ নেই বললেই চলে। ফলে কৃষকরা বাম্পার ফলনের আশা করছেন। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আগামী ২০-২২ দিনের মধ্যেই আগাম জাতের আলু বাজারে উঠতে শুরু করবে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগাম আমন ধান কাটার পর কৃষকরা জমি ফেলে রাখছেন না। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতায় প্রান্তিক জমিগুলোর অনেকটিতেই এখন আলুচাষ হচ্ছে—যা এলাকায় কৃষি উৎপাদনে এক ধরনের ‘বিপ্লব’ সৃষ্টি করেছে।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মাঠে আলু রোপণের কাজ পুরোদমে চলছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিঘাপ্রতি আলু ফলন ৬০-৭০ মণ পর্যন্ত হতে পারে। আর এক বিঘা জমি চাষে খরচ হয় প্রায় ১৩-১৫ হাজার টাকা।
বান্দাইখাড়া গ্রামের আলুচাষি মোঃ মুনজুর রহমান বলেন, “এ বছর আড়াই বিঘা জমিতে আলু লাগিয়েছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলনও ভালো হবে বলে আশা করছি।”
সুটকিগাছা গ্রামের মোঃ আব্দুর রাজ্জাক জানান, গত বছর দুই বিঘা আলুচাষ করে ২৮ হাজার টাকা লাভ করেন তিনি। এবার বেশি লাভের আশায় চার বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। তিনি আরও বলেন, “হিমাগার থেকে আনা বীজের গুণগত মান অনেক ভালো, ফলে ফলনও ভালো হবে।”
উপজেলায় উচ্চ ফলনশীল (উফশী), ষাটাল ও স্থানীয় জাতের আলুচাষ হচ্ছে। কৃষি বিভাগের আশা—এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে আলুচাষ হবে।
চলতি মৌসুমে আবহাওয়াসহ সবকিছুই আলুচাষের অনুকূলে থাকায় কৃষকদের মুখে এখন আশাবাদের হাসি।