
নিজস্ব প্রতিবেদক:
জোটের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ ও বিভিন্ন ইস্যুতে ঐকমত্য না হওয়ায় ১১ দলীয় জোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে পল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান।
তিনি অভিযোগ করেন, জোটের একটি দলের আচরণ এবং রাজনৈতিক অবস্থান বারবার ইসলামী আন্দোলনের আত্মসম্মানবোধে আঘাত করেছে। তিনি বলেন, “কারো অনুগ্রহের আসন নিয়ে আমরা রাজনীতি করতে চাই না। রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রেখেই আমরা পথ চলতে চাই।”
এ সময় জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থানেরও সমালোচনা করে ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র জানান, জামায়াতে ইসলামী ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলেও ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠা করবে না বলে জানানো হয়েছে — যা তাদের জোটগত লক্ষ্য ও স্বপ্নের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
গাজী আতাউর রহমান বলেন, “জামায়াত আমির বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাতে বলেছেন, ‘বর্তমান ক্ষমতা বদলের পর বেগম জিয়ার ঐক্যের পাটাতনে দাঁড়িয়ে সরকার গঠন করবেন।’ এমন বক্তব্য আমাদেরকে শঙ্কিত করেছে। এতে সমঝোতার পাতানো নির্বাচনের আভাস পাওয়া যায়, এবং আমরা কোনো পাতানো নির্বাচনের অংশ হতে চাই না।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়—
আগামী জাতীয় নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের বাইরে থেকেই অংশ নেবে ইসলামী আন্দোলন।
দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন জমা পড়েছে ২৭০টি আসনে; এর মধ্যে দু’জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।
বাকি ২৬৮ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন না বলে ঘোষণা এসেছে।
অবশিষ্ট ৩২টি আসনে ‘নীতিগত মিল থাকা সৎ ব্যক্তিদের’ সমর্থন দেওয়া হবে।
গাজী আতাউর রহমান বলেন, “৩০০ আসনেই ইসলামী শক্তির উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চাই। ইসলামের পক্ষে পীর সাহেব চরমোনাইয়ের ‘ওয়ান বক্স’ নীতি বাস্তবায়নই আমাদের লক্ষ্য।”
তবে জোট ছাড়লেও ১০ দলীয় জোটের অন্য দলগুলোর সঙ্গে বিরোধ নেই বলে মন্তব্য করেন মুখপাত্র।