আমতলীতে বিএনপি কার্যালয়ে ব্যানার টানিয়ে দখলচেষ্টা, পুলিশের নীরবতা নিয়ে অভিযোগ
আমার সকাল আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:
বরগুনার আমতলী উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে ব্যানার টানিয়ে দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত উপজেলা ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোঃ ইসফাক আহমেদ ত্বোহা, সবুজ উদ্দিন ম্যালাকার ও মঞ্জুরুল ইসলাম রিফাতসহ চারজন সোমবার সকালে উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে আওয়ামীলীগের ব্যানার টানিয়ে দখলের চেষ্টা করেন। তবে বিএনপি নেতাকর্মীদের তৎপরতায় তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
এর আগে গত শুক্রবার সকালে উপজেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল মতিন খাঁনের নেতৃত্বে আরও তিনজন ছাত্রলীগ নেতা একইভাবে বিএনপি কার্যালয়ে ব্যানার টানিয়ে দখলের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু সে সময়ও পুলিশ প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে দাবি করেন বিএনপি নেতারা।
জানা গেছে, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয় বিএনপির একাংশের নেতারা দখলে নেন। এরপর থেকে প্রায় দেড় বছর ধরে সেখানে বিএনপির দলীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, বিভিন্ন মামলার আসামি হয়েও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে পৌর শহরে চলাফেরা করলেও পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। পুলিশের এমন নীরবতায় তারা সাহস পাচ্ছে বলেও দাবি করা হয়।
আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মোঃ তুহিন মৃধা বলেন, “পুলিশ প্রশাসনের নিরবতার কারণে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ক্যাডাররা বারবার বিএনপি অফিস দখলের চেষ্টা করছে। আমরা দ্রুত তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।”
অন্যদিকে, অভিযুক্ত নিষিদ্ধ ঘোষিত উপজেলা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি মোঃ ইসফাক আহমেদ ত্বোহা দাবি করেন, “ওই অফিসটি আগে আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয় ছিল। ৫ আগস্টের পর বিএনপির একাংশ সেটি দখল করে তাদের কার্যালয় বানিয়েছে। তাই আমরা ব্যানার টানিয়েছি।”
এ বিষয়ে আমতলী থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “ব্যানার টানিয়ে বিএনপি কার্যালয় দখলের চেষ্টাকারীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষ শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রত্যাশা করছেন।













