১৭ বছরেও জোড়া লাগেনি স্বপ্ন: মৃত্যুফাঁদে ডুবুরীরখাল সেতু, ঝুঁকিতে হাজারো প্রাণ
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: এস এম সোলায়মান গনি
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের জামতলাপাড়া থেকে কচুয়ারপাড়া-মাদাইখাল সংযোগ সড়কের ওপর নির্মিত ডুবুরীরখাল সেতুটি এখন আর কেবল একটি ভাঙা স্থাপনা নয়—এটি হাজারো মানুষের প্রতিদিনের আতঙ্কের প্রতীক। ১৭ বছর আগে বন্যার তোড়ে বিধ্বস্ত হওয়া সেতুটি আজও পুনর্নির্মাণ হয়নি।
ফলে প্রতিদিন স্কুলপড়ুয়া শিশু, কৃষক, ব্যবসায়ী, অসুস্থ রোগী ও গর্ভবতী নারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন নড়বড়ে কাঠের পাটাতন দিয়ে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর উদ্যোগের অভাবে হতাশ হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি উদ্যোগ না থাকায় গ্রামবাসী নিজেরাই ভাঙা সেতুর ওপর কাঠের পাটাতন বসিয়ে অস্থায়ী চলাচলের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেটি আরও দুর্বল ও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে খালের পানি বৃদ্ধি ও স্রোতের তীব্রতায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
জানা গেছে, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়-এর অর্থায়নে একই স্থানে দুটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। নিম্নমানের নির্মাণকাজ ও স্বল্প বাজেটের কারণে নির্মাণের দুই-তিন বছরের মধ্যেই সেতুগুলো বন্যার স্রোতে ডেবে যায়। সর্বশেষ ২০০৬ সালে নির্মিত সেতুটি ২০০৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হওয়ার পর আর কোনো স্থায়ী পুনর্নির্মাণ হয়নি।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হাসেম আলী বলেন,
“এই সেতু দিয়ে ঠিকমতো হাঁটাও যায় না। রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে হলে কয়েক কিলোমিটার ঘুরতে হয়। অটোরিকশা তো দূরের কথা, সাইকেলও ওঠে না।”
কৃষক রমেশ চন্দ্রের ভাষ্য,
“বন্যার সময় পাটাতন কাঁপতে থাকে। মনে হয় এই বুঝি ভেঙে পড়বে। আমাদের ছেলে-মেয়েরা ভয় নিয়েই স্কুলে যায়।”
ভিতরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিউল আলম শফি জানান,
“২০০৬ সালে নির্মিত সেতুটি নিম্নমানের কাজের কারণে ভেঙে পড়ে। এখানে একটি টেকসই গার্ডার সেতুর প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত একটি স্থায়ী ও টেকসই গার্ডার সেতু নির্মাণ করা হলে জামতলা ও কচুয়ারপাড়া এলাকার কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্য সচল হবে।
১৭ বছর ধরে ঝুলে থাকা এই জনদুর্ভোগের অবসান কবে—এ প্রশ্ন এখন পুরো এলাকার মানুষের মুখে মুখে।













