
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে খবর প্রকাশ করেছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম ও ফার্স। রোববার (১ মার্চ) প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালায়। পাল্টা জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এতে করে পুরো অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের বরাতে জানা গেছে, রাজধানী তেহরান-এ নিজ কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় খামেনিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। ফার্স নিউজ জানিয়েছে, ওই হামলাতেই তিনি নিহত হন।
এ ঘটনায় ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
খামেনির মৃত্যুর পর দেশটির নেতৃত্ব নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট, প্রধান বিচারপতি এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন আইন বিশেষজ্ঞকে নিয়ে গঠিত তিন সদস্যের একটি পরিষদ সাময়িকভাবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করবে। এই পরিষদ ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া তদারকি করবে।
ইরানের সাবেক রাজপরিবারের সদস্য ও নির্বাসিত নেতা রেজা পাহলভি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, “ইরানি জনগণ দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতার জন্য মূল্য দিয়েছে, এবার মুক্তির সময় এসেছে।” তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপের প্রশংসাও করেন।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইরানের পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে আরও ৩০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়।
ইসরাইল আরও জানিয়েছে, সামরিক সদর দফতর, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনায় হামলা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে বিধ্বংসী সামরিক অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে।”
পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করায় মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল দ্রুত যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।