
স্টাফ রিপোর্টার, বান্দরবান: সুকেল তঞ্চঙ্গ্যা
পাহাড়ি জেলা বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ৩নং নয়াপাড়া ইউনিয়নের জানালী পাড়ায় কলা, আনারসসহ বিভিন্ন ফলের গাছ চুরি ও বাগান নষ্টকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। আহতদের আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নয়াপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা জাফর আলম (৪৫) দীর্ঘদিন ধরে জানালী পাড়ার ম্রো সম্প্রদায়ের বাগানের ফসল—কলা, আনারস, হলুদসহ বিভিন্ন গাছপালা ও গৃহপালিত পশু (ছাগল ও গরু) চুরি করে আসছিলেন। বিষয়টি একাধিকবার ৩নং নয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিনকে জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে জাফর আলম চুরির উদ্দেশ্যে গ্রামে প্রবেশ করলে গ্রামবাসীরা তাকে ধরে ফেলে। এ ঘটনার অল্পক্ষণ পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জাফরের ছেলে ও তার সহযোগীসহ ১০–১৫ জন কোদাল, কুঠারসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গ্রামবাসীর ওপর হামলা চালায়। এতে অংসং ম্রো (৩০) ও প্রেক্য ম্রো (২৬) গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা পরে জাফরকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং গ্রামবাসীদের হুমকি দেয়।
ঘটনার পর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গ্রামবাসীরা আলীকদম থানায় অভিযোগ জানালে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পরে বিকাল ৫টার দিকে থানার পক্ষ থেকে ফোনে থানায় আসতে বলা হলে উপস্থিত গ্রামবাসীদের ওসি জানান—ভুল নম্বরে কল করা হয়েছিল। এতে গ্রামবাসীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে।
বিকাল থেকে থানায় অবস্থান নেওয়ার পর গ্রামবাসীরা টমটমযোগে গ্রামে ফেরার পথে সন্ধ্যা ৭টার দিকে নয়া পাড়া কবরস্থান সংলগ্ন এলাকায় নারী-পুরুষসহ ৪০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আবারও হামলা চালায়। টমটমে থাকা ১৮ জনই আহত হন, যাদের মধ্যে ৮ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
১) ডাংয়া ম্রো (৫২), পিতা: মেনসাই ম্রো
২) অমর ত্রিপুরা (৫০), পিতা: নয়া চন্দ্র ত্রিপুরা
৩) প্রেকিক্য ম্রো (২৭), পিতা: মাংইন ম্রো
৪) অংসং ম্রো (৩০), পিতা: কটঙং ম্রো
৫) কটঙং ম্রো (৫০), পিতা: কাই ইন ম্রো
৬) ঙানওয়াই ম্রো (২৭), পিতা: দন রুই ম্রো
৭) লাংছিং ম্রো (৩০), পিতা: মপম ম্রো
৮) মেনরু ম্রো (৪০), পিতা: খাইন দই ম্রো
এ বিষয়ে আলীকদম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির্জা জহির উদ্দিন বলেন,
“আমরা পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখছি। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এলাকাবাসীর সহযোগিতাও কামনা করছি।”
এলাকাবাসীরা জানান,
“দু’দফা হামলার পরও স্থায়ী নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের গ্রেপ্তার করতে হবে।”
বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং নতুন করে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।