
আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার পাঁচুপুর ইউনিয়নের জগদাশ এলাকায় রাতের অন্ধকারে ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে ফসলি জমির উর্বর টপ সয়েল কেটে নেওয়া হচ্ছে। এতে কৃষিজমি ও পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জগদাশ-শিকারপুর এলাকার বিলে কৃষি জমি থেকে প্রায় ২০ থেকে ২৪ ফুট গভীর করে টপ সয়েল কেটে বিক্রি করা হচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ও ইটভাটায়। মাটি পরিবহনে অনুমোদনবিহীন মাহিন্দ্রা ট্রলি ও ড্রাম ট্রাক অবাধে চলাচল করায় গ্রামীণ সড়কগুলো ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এদিকে ট্রলি-ট্রাক থেকে পড়া মাটির কারণে সড়কে ধুলো ও কাদা জমে থাকে; ফলে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে। শুকনো মৌসুমে ধুলার কারণে জনস্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, আর বর্ষায় সড়ক পিচ্ছিল হয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, মাটি ব্যবসায়ীরা অল্প দামে কৃষকদের জমির মাটি কিনে নগদ টাকায় লোভ দেখিয়ে তা ইটভাটা ও অন্যান্য স্থানে বিক্রি করে। প্রশাসনের দুর্বল তদারকির সুযোগে এই অবৈধ মাটি উত্তোলন চলছে। এতে জমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে, ফলন কমছে এবং অঞ্চলের ভৌগোলিক গঠনও পরিবর্তিত হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
সরেজমিনে গণমাধ্যমকর্মীরা দেখতে পান, কৃষিজমি কেটে পুকুর খনন করা হচ্ছে এবং কাটা মাটি ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। জমির মালিক মিল্টনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, “নিজেদের প্রয়োজনেই আমরা পুকুর খনন করছি।”
তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় ইটভাটাগুলো কৃষিজমির টপ সয়েল তুলে নিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে চাষাবাদের জন্য বড় হুমকি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ প্রসেনজিৎ তালুকদার বলেন, “ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে ফেললে জমির মারাত্মক ক্ষতি হয়। টপ সয়েল হলো সবচেয়ে উর্বর স্তর, যা সাধারণত ৮ থেকে ১২ ইঞ্চি পর্যন্ত থাকে। এটি নষ্ট হলে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অন্তত তিন বছর সময় লাগে।” তিনি কৃষকদের টপ সয়েল কাটতে নিরুৎসাহিত করার কথা জানান।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নূরে আলম সিদ্দিক বলেন, “তথ্য পাওয়ার পর ভেকুর ব্যাটারি জব্দ করে মাটি কাটা বন্ধ করা হয়েছে। কৃষিজমির মাটি কাটার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো. আলাউল ইসলাম বলেন, “ভেকু দিয়ে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। প্রমাণ মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”