
শাহ্ ফুজায়েল আহমদ
নির্বাহী সম্পাদক
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি, দেশজুড়ে চরম নিরাপত্তাহীনতা এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় লুণ্ঠিত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র এখনো উদ্ধার না হওয়ায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিতের দাবিতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান জনস্বার্থে এই রিট দায়ের করেন। রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও র্যাবের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন থানা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যালয় থেকে প্রায় ৫ হাজার ৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬০৯ রাউন্ড গোলাবারুদ লুট হয়ে যায়। সরকার পুরস্কার ঘোষণা করলেও এখনো এসব অস্ত্রের একটি বড় অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, যা দেশবাসীর জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ।
রিটে আরও বলা হয়, এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে থাকায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ভোটার ও প্রার্থীদের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শরিফ উসমান হাদি সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ছাড়া নির্বাচন আয়োজন করলে তা ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ-এর বক্তব্য উদ্ধৃত করে রিটে বলা হয়, নির্বাচনের পূর্বে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা অত্যন্ত জরুরি।
আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান আরও উল্লেখ করেন, সরকার কিছু প্রার্থীর জন্য গানম্যানের ব্যবস্থা করলেও সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা বাংলাদেশ সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত নাগরিকের ‘জীবনের অধিকার’ লঙ্ঘনের শামিল হবে।
রিট আবেদনে তাই লুণ্ঠিত সব আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিককরণ এবং একটি নিরাপদ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।