
মোঃ জাহিদুল ইসলাম
ক্রাইম রিপোর্টার, বরগুনা
বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার ৭ নম্বর সোনাকাটা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাকাটা গ্রামে ইকোপার্ক সংলগ্ন একটি সেতুর নির্মাণকাজ দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছর ধরে বন্ধ থাকার পর অবশেষে পুনরায় শুরু হয়েছে।
দৈনিক পুনরুত্থান, দৈনিক দক্ষিণবঙ্গ, দৈনিক দেশ আলো ও দৈনিক বাংলাদেশ সমাচারসহ একাধিক জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় বিষয়টি নিয়ে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বন্ধ থাকা সেতুটির নির্মাণকাজ পুনরায় চালু করে। সেতুর কাজ পুনরায় শুরু হওয়ায় এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং বিষয়টি তুলে ধরায় সাংবাদিকদের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে তালতলী উপজেলার দক্ষিণা খালের ওপর (স্থানীয় নাম সোনাকাটা খাল) একটি সেতু নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ৭২ মিটার দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ৭ মিটার প্রস্থের সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৬ কোটি ৯৭ লাখ ৬৪ হাজার ৭১৫ টাকা। সেতুটির উচ্চতা নির্ধারণ করা হয় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ থেকে ১০ ফুট। প্রকল্পের কার্যাদেশ দেওয়া হয় বরিশালের আমির ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে।
সেতুটির দুই পাড়ের কাজ আংশিক সম্পন্ন হলেও মাঝখানের ২৪ মিটার স্প্যান দীর্ঘ আড়াই বছরেও স্থাপন করা হয়নি। সেতুর উচ্চতা কম হয়েছে—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে কিছু ব্যক্তি কাজ বন্ধ রাখার দাবি তুলেছিলেন। তবে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট খালটি তুলনামূলকভাবে ছোট এবং সেখানে অল্পসংখ্যক মাছধরা ট্রলার ছাড়া বড় কোনো জলযান চলাচল করে না। স্থানীয়দের মতে, নির্ধারিত উচ্চতায় সেতু নির্মিত হলে এলাকায় কোনো সমস্যা হবে না।
সোনাকাটা গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ী মোঃ মহসিন বলেন, “সেতুর কাজ পুনরায় শুরু হওয়ায় আমরা খুবই খুশি। এ বিষয়ে যারা সংবাদ প্রকাশ করেছেন, বিশেষ করে সাংবাদিক ভাইদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। পাশাপাশি বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ বরগুনা জেলার সভাপতি মোঃ হাফিজুর রহমান খান এবং এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কৃতজ্ঞতা জানাই।”
সোনাকাটায় কর্মরত বন বিভাগ의 বনরক্ষী মোঃ জাকির হোসেন বলেন, “আমি এখানে যোগদানের পর থেকেই সেতুর কাজ বন্ধ দেখতে পাচ্ছি। কয়েক মাস আগে সাংবাদিক হাফিজ খান ভাই এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এজন্য তাকে ও এলজিইডির কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানাই।”
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমির ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী মোঃ আমির হামজা বলেন, “সাংবাদিক হাফিজুর রহমান খানের লেখা সংবাদ এবং তালতলী উপজেলা প্রকৌশলী ও বরগুনা জেলা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলীর আন্তরিক প্রচেষ্টায় সেতুর কাজ পুনরায় শুরু হয়েছে। এজন্য আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।”
তালতলী উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “সাংবাদিকদের লিখিত প্রতিবেদনের কারণে বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পায়। আমাদের সার্বিক সহায়তায় সেতুর কাজ পুনরায় শুরু করা সম্ভব হয়েছে। সেতুটি সম্পন্ন হলে এলাকার মানুষের যাতায়াত ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ব্যাপক সুবিধা হবে।”
বরগুনা জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মেহেদী হাসান খান বলেন, “সেতুর উচ্চতা কম—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে কাজটি বন্ধ ছিল। আমি নিজে টিমসহ একাধিকবার সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। ইউপি চেয়ারম্যানের লিখিত আবেদনের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। ১০ মে ২০২৫ তারিখে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সেতুর নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করা হয়।”