ডেঙ্গুতে পিরোজপুরে রেকর্ড আক্রান্ত, মেঝেতেও চিকিৎসা

, স্টাফ রিপোর্টার
  • আপলোডের সময় : Friday, September 11, 2026,
ডেঙ্গুতে পিরোজপুরে রেকর্ড আক্রান্ত, মেঝেতেও চিকিৎসা
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।
ডেঙ্গুতে পিরোজপুরে রেকর্ড আক্রান্ত, মেঝেতেও চিকিৎসা

ডেঙ্গুতে পিরোজপুরে রেকর্ড আক্রান্ত, মেঝেতেও চিকিৎসা

মোঃ নাইম
স্টাফ রিপোর্টার, আমার সকাল ২৪
পিরোজপুর

বরিশাল বিভাগের ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে উদ্বেগের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে পিরোজপুর। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে সরকারি হাসপাতালগুলোতে দেখা দিয়েছে শয্যা সংকট। কোথাও কোথাও নির্ধারিত শয্যার বাইরে মেঝেতেও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ১০ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় পিরোজপুরের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে নতুন করে ৫০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলার হাসপাতালগুলোতে ৮৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

এর মধ্যে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ৩৫ জন, ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৫ জন, নাজিরপুরে ১৩ জন, নেছারাবাদে ১২ জন এবং কাউখালী ও মঠবাড়িয়ায় পাঁচজন করে রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জিয়ানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে কোনো ডেঙ্গু রোগী ভর্তি নেই।

স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি সময়ে পিরোজপুরের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে মোট ২ হাজার ৮৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৮৫৪ জন। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৯৯৯ জন। এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

মেঝেতে চিকিৎসা, বাড়ছে ভোগান্তি

ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ায় পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে পৃথক ওয়ার্ডের পাশাপাশি অন্যান্য স্থানেও রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় কোনো কোনো রোগীকে মেঝেতে অবস্থান করতে দেখা গেছে। এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি বেড়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মারুফা আক্তার জানান, চার দিন ধরে জ্বর, দুর্বলতা ও বমি ভাব নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় হাসপাতালে থাকা ও চিকিৎসা নেওয়া দুটোই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

হামের উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১ হাজার ৭৪ হামের উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১ হাজার ৭৪

বিভিন্ন স্থানে মিলেছে এডিসের লার্ভা

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার মধ্যে পিরোজপুরে মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান চালিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) একটি দল। অনুসন্ধানে শহর ও গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

কেটে রাখা সুপারি গাছের গোড়া, ডাবের খোসা, নার্সারির টব, বাড়ির ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন ও বিভিন্ন নালায় জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। গ্রামাঞ্চলে সুপারি ও নারকেল গাছের গোড়ায় জমে থাকা পানিও এডিস মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে।

চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে মশারির মধ্যে রাখা জরুরি। কারণ আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ানো মশার মাধ্যমে অন্য ব্যক্তির শরীরেও ডেঙ্গুর জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে।

পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত এনএস১ পরীক্ষার কিট, ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রী রয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সরা ২৪ ঘণ্টা সেবা দিচ্ছেন।

সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হচ্ছে। রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত স্যালাইনও সরবরাহ রয়েছে।

এদিকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জেলা পরিষদ ও পিরোজপুর পৌরসভা মশা নিধনে স্প্রে ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু মশা নিধনের স্প্রে দিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বাড়িঘর, ছাদ, নালা ও আশপাশে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণের পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যায় পিরোজপুর শীর্ষে রয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্তের জেলা হিসেবে রয়েছে ঝালকাঠি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন:

লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?

মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।

একটি মন্তব্য লিখুন

আমার সকাল ২৪  ই – পেপার

এ সংক্রান্ত