মানবেতর জীবনযাপন করছেন সিরাজগঞ্জের প্যারালাইসিস রোগী রফিকুল ও তাঁর অসুস্থ স্ত্রী মমতা
- আপলোডের সময় : Tuesday, August 18, 2026,

মানবেতর জীবনযাপন করছেন সিরাজগঞ্জের প্যারালাইসিস রোগী রফিকুল ও তাঁর অসুস্থ স্ত্রী মমতা
মো. সোহরাওয়ার্দী হোসেন
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
জীবিকার তাগিদে দীর্ঘ ১১ বছর প্রবাসে কাটিয়েছেন সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার মো. রফিকুল ইসলাম। স্বপ্ন ছিল প্রবাসের কষ্ট শেষে দেশে ফিরে স্ত্রী-সন্তান ও পরিবারের সঙ্গে শান্তিতে জীবন কাটাবেন। কিন্তু দেশে ফেরার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়। বর্তমানে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী রফিকুল ইসলাম এবং তাঁর স্ত্রী মমতা বেগম অসহায় জীবনযাপন করছেন।
বেলকুচি উপজেলার মবুপুর নতুনপাড়া গ্রামের মৃত নুরাল প্রামাণিকের ছেলে রফিকুল ইসলাম পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার আশায় সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন। সেখানে টানা ১১ বছর পরিশ্রম করে দেশে ফেরেন তিনি। কিন্তু দেশে ফেরার প্রায় চার মাস পর হঠাৎ প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন।
পরিবারের দাবি, প্রবাসে উপার্জিত অর্থের বড় একটি অংশ প্রবাস জীবন ও পরবর্তী চিকিৎসায় ব্যয় হয়ে যায়। একপর্যায়ে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়ে। এ অবস্থায় স্বামীর অসুস্থতা ও সংসারের অনটনের কারণে রফিকুল ইসলামের স্ত্রী মমতা বেগমও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। বর্তমানে স্বামী শয্যাশায়ী এবং স্ত্রীও অসুস্থ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়ায় সংসারে নিত্যদিনের খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসার খরচ বহন করাও তাঁদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় প্রতিবেশীরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী মাঝে মাঝে তাঁদের সহযোগিতা করলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল। ফলে অসহায় এই দম্পতি মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
এলাকাবাসী জানান, পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর মতো স্থায়ী কোনো আয়ের উৎস নেই। তাই প্যারালাইসিসে আক্রান্ত রফিকুল ইসলামের চিকিৎসা এবং তাঁর পরিবারের ভরণপোষণের জন্য সরকারি সহায়তা ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর দাবি, স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে পরিবারটির জন্য চিকিৎসা সহায়তা, নিয়মিত ভাতা কিংবা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করলে অসহায় দম্পতির জীবন কিছুটা স্বস্তির মুখ দেখবে।










