
বিশেষ প্রতিনিধি: মোঃ মনিরুজ্জামান
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নীলফামারী–২ আসনের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন টানটান উত্তেজনায়। দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে অবশেষে ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ভাগ্নে শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন। তার প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ ভোটারদের মাঝে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উদ্দীপনা।
নীলফামারীর বিভিন্ন ইউনিয়ন-ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, ধানের শীষের সমর্থনে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছে প্রচারণায়। উঠান বৈঠক, পথসভা ও গণসংযোগে মুখরিত শ্লোগান—“বিজয়ের ধ্বনি”। স্থানীয় ভোটারদের মতে, তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে তুহিন ব্যাপক জনপ্রিয়। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তার রাজনৈতিক অবস্থান সাধারণ মানুষের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
নির্বাচন বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নীলফামারী–২ আসনে এবারের নির্বাচন একপাক্ষিক নয়; বরং হতে যাচ্ছে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার। এখানে তুহিনের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে রয়েছেন জামায়াত মনোনীত আল ফারুক, যিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
ধানের শীষ (তুহিন): বিএনপির সুসংগঠিত ভোটব্যাংক ও তরুণদের সমর্থন তার বড় শক্তি।
দাঁড়িপাল্লা (আল ফারুক): দলীয় কর্মীবাহিনীর ঐক্য ও ধর্মীয় ভোটের ভিত্তি তাকে এগিয়ে রাখছে নির্দিষ্ট এলাকায়।
স্থানীয় ভোটারদের ধারণা, ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অনেকেই বলছেন—“যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হয়, তাহলে কে জিতবে বলা কঠিন।” তবে তুহিনের সমর্থকরা আশাবাদী, “সব বাধা অতিক্রম করেই শেষ পর্যন্ত জয় হবে ধানের শীষের।”
ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, দুই প্রার্থীর সমর্থকরা ঘরোয়া বৈঠক, গণসংযোগ ও প্রচারণায় আরও ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন। এখন দেখার অপেক্ষা—নীলফামারী–২ আসনের মানুষ কাকে বেছে নেবে তাদের আগামীর কাণ্ডারি হিসেবে।