৯/১১ হামলার ২৫ বছর: বদলে গেছে নিউইয়র্ক, বদলে গেছে বিশ্ব
- আপলোডের সময় : Friday, September 11, 2026,

৯/১১ হামলার ২৫ বছর: বদলে গেছে নিউইয়র্ক, বদলে গেছে বিশ্ব
নিজস্ব প্রতিবেদক
আমার সকাল ২৪
আন্তর্জাতিক
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে। এই আড়াই দশকে যেমন বদলে গেছে নিউইয়র্ক শহরের চেহারা, তেমনি ওই হামলার অভিঘাতে পরিবর্তিত হয়েছে বিশ্বের রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও আর্থসামাজিক বাস্তবতাও।
ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ার ধ্বংসের পর লোয়ার ম্যানহাটনের চিত্র আমূল বদলে যায়। ধ্বংসস্তূপের জায়গায় গড়ে উঠেছে নতুন স্থাপনা, স্মৃতিসৌধ ও আধুনিক নগর অবকাঠামো। তবে ওই হামলার স্মৃতি এখনো নিউইয়র্কের এই অংশের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।
৯/১১-এর সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন জর্জ ডব্লিউ বুশ। হামলার পর তিনি ‘বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’ ঘোষণা করেন। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে শুরু হওয়া ওই যুদ্ধের প্রভাব দ্রুতই মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
২০০১ সালের ৭ অক্টোবর আফগানিস্তানে ‘অপারেশন এনডিউরিং ফ্রিডম’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। এতে তালেবান সরকার ক্ষমতাচ্যুত হলেও দীর্ঘ দুই দশক ধরে যুদ্ধ ও সংঘাত অব্যাহত থাকে। শেষ পর্যন্ত ২০২১ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহার করলে দ্রুতই তালেবান আবার দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।
এরপর ২০০৩ সালে ‘গণবিধ্বংসী অস্ত্র’ থাকার অভিযোগে ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। সাদ্দাম হোসেন সরকারের পতন হলেও দেশটিতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতা ও সংঘাতের সৃষ্টি হয়।
৯/১১-এর পর যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাব্যবস্থাতেও বড় পরিবর্তন আসে। ২০০২ সালে গঠন করা হয় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট। পাশাপাশি বিমানবন্দর, সীমান্ত ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। প্যাট্রিয়ট অ্যাক্টের মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষমতাও বাড়ানো হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে এর প্রভাব ছিল আরও ব্যাপক। ইরাক, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ইয়েমেনসহ বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ও সামরিক সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়। এসব সংঘাতে বিপুল প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন গবেষণা ও হিসাব অনুযায়ী, গত ২৫ বছরে এসব যুদ্ধ ও সংঘাতের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু এবং কোটি মানুষের বাস্তুচ্যুতি ঘটেছে। একই সময়ে এসব যুদ্ধ পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়ও কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
৯/১১-এর পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সন্ত্রাসবিরোধী আইন কঠোর করে এবং সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় নজরদারি বাড়ায়। ন্যাটো ও জাতিসংঘও বিভিন্ন পর্যায়ে সন্ত্রাসবিরোধী উদ্যোগে সহযোগিতা করে।
তবে এই যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্কও রয়েছে। একদিকে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার হয়েছে, অন্যদিকে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ, বেসামরিক প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি, মানবাধিকার ও অতিরিক্ত নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বদলে যাওয়া ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এলাকা
৯/১১-এর ২৫তম বার্ষিকী সামনে রেখে নিউইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটনের পরিবর্তিত চিত্র তুলে ধরেছে এবিসি নিউজ। পুরোনো ও সাম্প্রতিক ছবির তুলনায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, আড়াই দশকে এলাকাটি কতটা বদলে গেছে।
২০০১ সালের জানুয়ারিতে নিউ জার্সির ওয়েহকেন থেকে তোলা একটি রাতের ছবিতে ম্যানহাটনের আকাশরেখায় স্পষ্ট দেখা যায় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের জোড়া টাওয়ার। তখন টুইন টাওয়ার ছিল নিউইয়র্কের অন্যতম প্রধান প্রতীক।
২০২৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর একই ধরনের দৃশ্যে দেখা যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ম্যানহাটন। আকাশরেখায় এখন দাঁড়িয়ে আছে ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার। পাশাপাশি ৯/১১ হামলায় নিহতদের স্মরণে জ্বালানো ‘ট্রিবিউট ইন লাইট’ আকাশে আলোর রেখা তৈরি করেছে।
২০০১ সালের ১২ সেপ্টেম্বরের ছবিতে গ্রাউন্ড জিরোতে ধ্বংসপ্রাপ্ত ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ভবনগুলোর ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়। হামলার পর ওই এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে চলে উদ্ধার, পুনর্গঠন ও নগর উন্নয়ন কার্যক্রম।
বর্তমানে চার্চ স্ট্রিট ও কোর্টল্যান্ড স্ট্রিটের আশপাশে গড়ে উঠেছে নতুন ভবন ও আধুনিক অবকাঠামো। যেখানে একসময় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার প্লাজা ছিল, সেখানেও এসেছে নতুন নগর বিন্যাস।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার হামলায় নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ধ্বংস হয়। ২৫ বছর পর সেই স্থান নতুন ভবন, স্মৃতিসৌধ ও আধুনিক নগর অবকাঠামোর মাধ্যমে নতুন রূপ পেলেও টুইন টাওয়ারের স্মৃতি আজও মুছে যায়নি। বরং তা নিউইয়র্কের ইতিহাস ও বিশ্ব রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়েছে।



















লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।