৫৩ কোটি টাকার পানি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, সুপেয় পানির সংকটে মঠবাড়িয়া পৌরবাসী
- আপলোডের সময় : Wednesday, August 26, 2026,

৫৩ কোটি টাকার পানি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, সুপেয় পানির সংকটে মঠবাড়িয়া পৌরবাসী
স্টাফ রিপোর্টার | মোঃ নাইম
পিরোজপুরের প্রথম শ্রেণির মঠবাড়িয়া পৌরসভায় ৫৩ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে বাস্তবায়িত পানি সরবরাহ প্রকল্প নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাচ্ছেন না পৌরবাসী। অনিয়মিত পানি সরবরাহ, বিভিন্ন স্থানে পাইপ ফেটে যাওয়া এবং দুর্গন্ধযুক্ত ও ময়লাযুক্ত পানি পাওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
পৌরবাসীর সুপেয় পানির সংকট নিরসনে সি.টি.ই.আই.পি প্রকল্পের আওতায় ৫৩ কোটি ৯ লাখ ৯৫ হাজার ৮৬ টাকা ব্যয়ে পানি সরবরাহ প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। গোপালগঞ্জের সিনোকোনোস্ট-এমটি অ্যান্ড এসএস কনসোর্টিয়াম নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটির কাজ বাস্তবায়ন করে। প্রকল্পের আওতায় পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৫৪ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন করে বাসাবাড়িতে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের কাজ চলাকালে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে শুরু থেকেই বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। কাজ শেষ হওয়ার পরও বিভিন্ন স্থানে পাইপ ফেটে যাওয়ায় পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় দুর্গন্ধযুক্ত ও ময়লাযুক্ত পানি সরবরাহ করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। ফলে ওই পানি পান করা তো দূরের কথা, দৈনন্দিন কাজেও ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়দের দাবি, ২০১৪ সালে প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই অবকাঠামো নির্মাণে নিম্নমানের পাইপ, লোহা, পাথর ও সিমেন্ট ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। পাম্প, হাউজ, বেজ ঢালাইসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক নির্মাণকাজের মান নিয়েও প্রশ্ন ছিল। সে সময় অভিযোগ করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।
পৌর শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা গৃহিণী মাহমুদা আক্তার বলেন, “সময়মতো আমরা পানি পাই না। এতে বাসাবাড়ির কাজ করতে সমস্যা হয়। পানির জন্য অপেক্ষা করতে হয়—কখন পানি আসবে। বাচ্চাকে নিয়ে স্কুলে গেলে ফিরে এসে অনেক সময় আর পানি পাওয়া যায় না। আমরা খুব সমস্যার মধ্যে আছি।”
নিউমার্কেট এলাকার বাসিন্দা আবির জামান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে পানি প্রকল্পের বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এ খাতে বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার না হলে নাগরিকরা তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। দুর্নীতির কারণে পৌরবাসীর ভোগান্তি পীড়াদায়ক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে মঠবাড়িয়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান কাওসার বলেন, “প্রকল্পটির কাজ প্রায় পাঁচ বছর আগে শেষ হয়েছে। আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর আসে পানির লাইনের পাইপ ফেটে যায়। আমরা সেগুলো মেরামতের চেষ্টা করছি। লো-ভোল্টেজের কারণে সঠিক সময়ে পানি উত্তোলন করা সম্ভব হয় না। এ কারণে পৌরবাসী ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।”
মঠবাড়িয়া পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা অমল কৃষ্ণ সাহা বলেন, “বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে গ্রাহকরা সময়মতো পানি পাচ্ছেন না। এছাড়া পূর্বে নিম্নমানের কাজ হওয়ার কারণে বিভিন্ন সময়ে পাইপ ফেটে যায়। সেগুলো সংস্কার করা হচ্ছে।”
৫৩ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মিত পানি সরবরাহ প্রকল্পের পরও নিরাপদ ও নিয়মিত পানি না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ পৌরবাসী। তাদের দাবি, প্রকল্পের নির্মাণকাজ ও ব্যবহৃত সামগ্রীর মান খতিয়ে দেখে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা, অনিয়মের প্রমাণ মিললে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং দ্রুত স্থায়ীভাবে পানি সরবরাহের সংকট নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।











লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।