হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে বহুল আলোচিত মামলার বিচার শুরু

প্রতিনিধির নাম:
  • আপলোডের সময় : Thursday, September 10, 2026,
হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে বহুল আলোচিত মামলার বিচার শুরু
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।
হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে বহুল আলোচিত মামলার বিচার শুরু

হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে বহুল আলোচিত মামলার বিচার শুরু

চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে দায়ের করা বহুল আলোচিত ফৌজদারি মামলার বিচার শুরু হয়েছে। বুধবার নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতে বিচারকাজ শুরু হলে মার্কিন প্রসিকিউটররা প্রতিষ্ঠানটিকে ‘অপরাধী চক্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তাদের অভিযোগ, মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিক গোপন তথ্য চুরি করে টেলিযোগাযোগ খাতে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে হুয়াওয়ে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন বিচার বিভাগের আইনজীবী টেইলর স্টাউট সরকারের পক্ষে দেওয়া উদ্বোধনী বক্তব্যে দাবি করেন, প্রায় ২০ বছর ধরে চুরি, মিথ্যা ও তথ্য গোপনের মাধ্যমে হুয়াওয়ে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার অপব্যবহার করেছে। বিশ্বজুড়ে টেলিযোগাযোগ খাতে আধিপত্য বিস্তারই প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম লক্ষ্য ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ব্যবসায় অন্যায্য সুবিধা নিতে যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি কোম্পানির বাণিজ্যিক গোপন তথ্য চুরির ষড়যন্ত্র করেছিল হুয়াওয়ে। এসব তথ্যের মধ্যে রয়েছে সিসকো সিস্টেমসের ইন্টারনেট রাউটারের অপারেটিং সিস্টেমের সোর্স কোড এবং টি-মোবাইলের ফোন পরীক্ষায় ব্যবহৃত একটি রোবোটিক হাতের প্রযুক্তিগত তথ্য।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

টেইলর স্টাউট বলেন, আদালতে এমন ব্যক্তিদের সাক্ষ্য উপস্থাপন করা হবে, যারা হুয়াওয়ের মার্কিন প্রযুক্তি চুরির চেষ্টা প্রত্যক্ষ করেছিলেন। একটি রোবোটিক হাতের তথ্য নেওয়ার সময় হুয়াওয়ের এক কর্মীকে হাতেনাতে ধরার ভিডিও প্রমাণও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে হুয়াওয়ের আইনজীবীরা প্রসিকিউশনের অভিযোগ অস্বীকার করে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন। প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবী ব্রায়ান হিবারলিগ বলেন, এটি কোনো ষড়যন্ত্রের মামলা নয়, বরং প্রতিযোগিতার মামলা। হুয়াওয়ের সাফল্য চুরির মাধ্যমে নয়, বরং উদ্ভাবন ও স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের ফল বলে দাবি করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম, মোবাইল ফোন এবং সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চিপ তৈরির জন্য পরিচিত হুয়াওয়ে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে এর নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম ব্যবহারে বিধিনিষেধ রয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের অনুমোদন ছাড়া হুয়াওয়ের কাছে মার্কিন পণ্য ও প্রযুক্তি রপ্তানিও নিষিদ্ধ।

ভিসা আবেদনকারীদের কঠোর সতর্কবার্তা দিল মার্কিন দূতাবাস ভিসা আবেদনকারীদের কঠোর সতর্কবার্তা দিল মার্কিন দূতাবাস

মামলাটি নিয়ে চীনও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘দমন ও নিয়ন্ত্রণের’ বিরোধিতা করে বেইজিং। বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমর্থন দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

ইরান নিয়ে অভিযোগে বাড়ে মামলার পরিধি

হুয়াওয়ের বিরুদ্ধে মামলাটি শুরু হয় ২০১৮ সালে। সে সময় প্রতিষ্ঠানটি এবং এর প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মেং ওয়ানঝৌর বিরুদ্ধে ব্যাংক জালিয়াতি ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ ছিল, ইরানে হুয়াওয়ের ব্যবসার প্রকৃত তথ্য গোপন করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে কোটি কোটি ডলার মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে মামলার পরিধি আরও বিস্তৃত হয়। এতে লাভের উদ্দেশ্যে কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ধারাবাহিক অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগও যুক্ত করা হয়।

হুয়াওয়ের আইনজীবী হিবারলিগ বলেন, প্রসিকিউশন বৈশ্বিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডকে ঘুরিয়ে অপরাধ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে। সরকারের অভিযোগকে ‘বাছাই করা বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব ঘটনাকে এমন কোনো বড় ষড়যন্ত্রের প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়, যার অস্তিত্বই ছিল না।

সিসকো ও টি-মোবাইলের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা নিজেদের উদ্যোগে এসব কর্মকাণ্ড করেছিলেন বলেও দাবি করেছে প্রতিরক্ষা পক্ষ। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানার পর ব্যবস্থা নিয়েছিল বলেও আদালতে যুক্তি দেওয়া হয়। একটি প্রযুক্তি মেলায় ফুজিৎসুর নেটওয়ার্কিং সরঞ্জামের অননুমোদিত ছবি তোলার ঘটনাকে এক কর্মীর ‘বোকামি’ হিসেবে উল্লেখ করে হুয়াওয়ের আইনজীবীরা জানান, ওই কর্মীকে দ্রুত চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।

প্রসিকিউশন আরও অভিযোগ করেছে, ইরানে হুয়াওয়ের কার্যক্রমের প্রকৃতি গোপন রাখা হয়েছিল, যাতে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ডলার লেনদেন করা যায়। একই সঙ্গে ইরান সরকারকে নিজেদের নাগরিকদের ওপর নজরদারিতে সহায়তা করার অভিযোগও আনা হয়েছে।

শেয়ার করুন:

লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?

মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।

একটি মন্তব্য লিখুন

আমার সকাল ২৪  ই – পেপার

এ সংক্রান্ত