সালথায় সাফল্যের ধারাবাহিকতায় শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে ইউসুফদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা
- আপলোডের সময় : Tuesday, September 1, 2026,

সালথায় সাফল্যের ধারাবাহিকতায় শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে ইউসুফদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা
মো. মেহেদী হাসাফন, রিদপুর প্রতিনিধি
ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি সাহিত্য, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও শিক্ষাক্ষেত্রে ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রেখেছে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ইউসুফদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা। ১৯৮৩ সালে অজপাড়াগাঁয়ে প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে এবতেদায়ি থেকে ফাজিল পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
উপজেলা সদরের পূর্ব প্রান্তে ভাওয়াল ইউনিয়নের ইউসুফদিয়া গ্রামে প্রায় দুই একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে মাদ্রাসাটি। পাকা সড়ক থেকে প্রায় ৫০০ মিটার ইটের রাস্তা পেরিয়ে নিরিবিলি প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থিত এ প্রতিষ্ঠানে রয়েছে চারতলা ও তিনতলা দুটি ভবন এবং একটি টিনশেড ভবন। এসব ভবনে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী এখানে অধ্যয়ন করছে। প্রতিষ্ঠানে রয়েছে কম্পিউটার ল্যাব, পাঠাগার ও খেলার মাঠ। শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর বিভিন্ন খেলাধুলার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সাফল্য অর্জন করছে।
প্রতিষ্ঠার শুরুতে দাখিল পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও ২০১২ সাল থেকে আলিম পর্যায়ের কার্যক্রম চালু হয়। বর্তমানে এবতেদায়ি থেকে ফাজিল পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন সময়ে পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, গত পাঁচ বছরের গড় হিসাবে দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং আলিমে প্রায় ৯০ শতাংশ। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটি আটবার শ্রেষ্ঠ মাদ্রাসা নির্বাচিত হয়েছে বলেও কর্তৃপক্ষের দাবি।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ইউসুফদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা স্থানীয় ও আশপাশের এলাকার শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষার সুযোগ দিয়ে আসছে। উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতিতেও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তবে পাকা সড়ক থেকে মাদ্রাসা পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার ইটের রাস্তা থাকায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আবু ছায়েম মোল্যা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি খেলাধুলা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, অবকাঠামো ও আসবাবপত্রের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। তাঁর দাবি, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি উপজেলা পর্যায়ে কয়েকবার শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।
অধ্যক্ষ মো. আবু ছায়েম মোল্যা বলেন, “মাননীয় জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দিকনির্দেশনায় বর্তমানে মাদ্রাসাটি পরিচালিত হচ্ছে। আমরা আবাসিক ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি খেলার মাঠ আরও বড় করার চেষ্টা করছি। পাকা রাস্তা থেকে মাত্র ৫০০ মিটার ইটের রাস্তা আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর জন্য কিছুটা কষ্টের কারণ। রাস্তাটি পাকাকরণ হলে সবার জন্য ভালো হবে।”
তিনি আরও বলেন, “মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। আমরা অর্জিত সাফল্য ধরে রাখার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিকে আরও উন্নত করতে চাই।”
মো. মেহেদী হাসান
ক্রাইম রিপোর্টার, আমার সকাল ২৪










