
মোঃ সাইফুল ইসলাম লিংকন, বিশেষ প্রতিনিধি, চাঁদপুর
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ পৌর এলাকায় সম্পত্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত মারধরের ঘটনায় গুরুতর আহত আব্দুল মান্নান পাটওয়ারী (৬৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সুমন পাটওয়ারী (২৮) পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মতলব দক্ষিণ পৌরসভার দক্ষিণ দীঘলদী গ্রামের আকরাম আলী পাটওয়ারী বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছিল। নিহত আব্দুল মান্নান পাটওয়ারী ওই বাড়ির মৃত সিডু পাটওয়ারীর ছেলে। তিনি একসময় ফার্নিচার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলেও বর্তমানে অবসর জীবনযাপন করছিলেন। অভিযুক্ত সুমন পাটওয়ারী একই বাড়ির আরব আলী পাটওয়ারীর ছেলে।
স্বজন ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত শনিবার (৩০ মে) বিকেলে মান্নান পাটওয়ারীর ছোট ভাই প্রতিবন্ধী হারুন পাটওয়ারী বাড়ির সামনে নিজের দাবি করা জায়গায় একটি গাছ রোপণ করেন। পরে অভিযুক্ত সুমনের মা গাছটি উপড়ে ফেললে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সুমন পাটওয়ারী তার সমর্থকদের নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে হারুন পাটওয়ারী ও তার স্ত্রীকে মারধর করেন।
এরপর মাগরিবের নামাজ শেষে বাড়িতে ফিরে পরিস্থিতি জানতে চাইলে আব্দুল মান্নান পাটওয়ারীকেও সুমন পাটওয়ারী ও তার সহযোগীরা বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
নিহতের চাচাতো ভাই তাজুল ইসলাম পাটওয়ারী জানান, আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের আত্মীয় নান্নু হাওলাদার বলেন, ঘটনার সময় হামলাকারীরা আহতদের ওপর আক্রমণ চালালেও প্রভাবের কারণে কেউ এগিয়ে আসতে পারেনি। পরে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানা যায়, সোমবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মান্নান পাটওয়ারী মারা যান।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা আক্তার হোসেন মৃধা অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত সুমন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে একটি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে এবং ঘটনার দিন বিপুল সংখ্যক লোক নিয়ে হামলা চালানো হয়। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
মান্নান পাটওয়ারীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতের বাড়িতে স্বজন ও এলাকাবাসীর ভিড় বাড়ে। এ সময় তারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
অভিযুক্ত সুমন পাটওয়ারীর বক্তব্য জানতে তার বাড়িতে গেলে বাড়ির ফটক বন্ধ পাওয়া যায়। ভেতরে লোকজন থাকলেও কেউ বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, সম্পত্তি নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে আহত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।