শিক্ষিকা রনজিলা হত্যা: র্যাবের গ্রেপ্তার দুজনের মধ্যে প্রকৃত অপরাধী কে, নিশ্চিত নয়
- আপলোডের সময় : Thursday, September 3, 2026,

শিক্ষিকা রনজিলা হত্যা: র্যাবের গ্রেপ্তার দুজনের মধ্যে প্রকৃত অপরাধী কে, নিশ্চিত নয়
নিজস্ব প্রতিবেদক
সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর টানে চলন্ত রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে শিক্ষিকা রনজিলা পারভীনের মৃত্যুর ঘটনায় র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির মধ্যে প্রকৃত অপরাধী কে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা মোটরসাইকেলের সঙ্গে র্যাবের উদ্ধার করা মোটরসাইকেলের মিল না থাকায় তদন্ত নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, থানা পুলিশের তদন্তের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও ঘটনাটির ছায়া তদন্ত করছে। প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে ডিবি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত আলোচিত হওয়ায় ঘটনার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে। তদন্ত একটি চলমান প্রক্রিয়া হওয়ায় এখনই নির্দিষ্ট করে কাউকে মূল অপরাধী বলা সম্ভব নয়।
ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, র্যাব গ্রেপ্তার করা দুই ব্যক্তির মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে এর আগে ১২টি ছিনতাই মামলা রয়েছে। ফলে তাকে একেবারে নির্দোষ বলার সুযোগ নেই। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
মূল আসামিকে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, থানার তদন্তের পাশাপাশি ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশ স্পর্শকাতর ঘটনাগুলোতে ছায়া তদন্ত করে থাকে। এ ঘটনাতেও তাদের নজরদারি রয়েছে।
সংসদ ভবনের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় একজন শিক্ষিকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় নিহত হওয়ায় নিরাপত্তাব্যবস্থা ও পুলিশের দায়িত্বে কোনো অবহেলা ছিল কি না, সে প্রশ্নও ওঠে।
জবাবে শফিকুল ইসলাম বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি বলা যাবে না। তবে কোথাও পুলিশ সদস্যের দায়িত্বে থাকার কথা থাকলেও তিনি উপস্থিত না থাকলে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, ঘটনার পর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। আগে থেকেই বাস টার্মিনাল, হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোশাকধারী পুলিশ ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যদের টহল ছিল। তবে ঘটনার পর পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় চাহিদা অনুযায়ী কোনো কোনো স্থানে একটি টহল দলের পরিবর্তে তিনটি টহল দল মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশের টিমও বাড়ানো হয়েছে।
এ ছাড়া রাজধানীতে মোটরসাইকেল টিম মোতায়েন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা মহানগর বড় এলাকা হলেও পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে টহল আরও জোরদার করা হচ্ছে।









