লালমনিরহাটের ঐতিহ্যবাহী সিন্দুরমতি দিঘি হবে দৃষ্টিনন্দন ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র: ত্রাণমন্ত্রী দুলু
- আপলোডের সময় : Friday, August 28, 2026,

লালমনিরহাটের ঐতিহ্যবাহী সিন্দুরমতি দিঘি হবে দৃষ্টিনন্দন ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র: ত্রাণমন্ত্রী দুলু
লালমনিরহাট বিশেষ প্রতিনিধি: মো. রেজাউল করিম
লালমনিরহাটের ঐতিহ্যবাহী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান ও ঐতিহাসিক সিন্দুরমতি দিঘিকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন আকর্ষণীয় ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নে সিন্দুরমতি দিঘি ও পুকুরপাড়ের চলমান উন্নয়নকাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, সিন্দুরমতি দিঘি শুধু একটি ঐতিহাসিক স্থান নয়, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি তীর্থস্থান। দীর্ঘদিনের অযত্ন ও অবহেলায় স্থানটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিল। এর সঙ্গে স্থানীয় ইতিহাস, লোককথা ও মানুষের ধর্মীয় আবেগ জড়িয়ে রয়েছে।
দিঘির ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখেই উন্নয়নকাজ পরিচালনা করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভক্ত ও পর্যটকরা নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও পবিত্র স্নান করতে পারবেন।
স্থানীয় জনশ্রুতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, একসময় এ অঞ্চলে পানির সংকট দেখা দিলে স্থানীয় জমিদার নারায়ণ চক্রবর্তী একটি পুকুর খনন করেন। কথিত আছে, পুকুর খননের পরও পানি না ওঠায় তাঁর দুই কন্যা ‘সিন্দুর’ ও ‘মতি’ নিজেদের জীবন বিসর্জন দেন। পরবর্তীতে তাঁদের নাম অনুসারে স্থানটি ‘সিন্দুরমতি’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী জানান, ঐতিহাসিক স্থানটির উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে চলতি মৌসুমে আগাম বৃষ্টির কারণে কাজের গতি কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। আগামী অক্টোবরের শেষ দিক অথবা নভেম্বর মাসে পুনরায় পুরোদমে উন্নয়নকাজ শুরু করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সিন্দুরমতি দিঘির উন্নয়ন শুধু অবকাঠামোগত কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভক্তদের ধর্মীয় কার্যক্রম সহজ করার পাশাপাশি দিঘির নান্দনিক সৌন্দর্য ও পরিবেশের উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও দর্শনীয় স্থান হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনিতা দাস, সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এবিএম ফারুক সিদ্দিক, জেলা বিএনপির সহ-যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুর রহমানসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সনাতন ধর্মাবলম্বী গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।











লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।