লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুই অ্যাম্বুলেন্সই বিকল, ঝুঁকিতে প্রায় ৩ লাখ মানুষ
- আপলোডের সময় : Tuesday, September 1, 2026,

লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুই অ্যাম্বুলেন্সই বিকল, ঝুঁকিতে প্রায় ৩ লাখ মানুষ
স্টাফ রিপোর্টার, বান্দরবান: সুকেল তঞ্চঙ্গ্যা
বান্দরবানের লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি চিকিৎসাসেবায় বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের সরকারি দুটি অ্যাম্বুলেন্সই দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে পড়ে থাকায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকার রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদরসহ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে স্থানান্তর করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে প্রায় তিন লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির বহরে থাকা অ্যাম্বুলেন্স দুটির নম্বর ‘বান্দরবান-ছ-৭১-০০০১’ ও ‘ঢাকা মেট্রো-ছ-৭১-১০৬১’। এর মধ্যে ১৯৯৭ সালে সরবরাহ করা প্রথম অ্যাম্বুলেন্সটি অনেক আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে সরবরাহ করা দ্বিতীয় অ্যাম্বুলেন্সটি একাধিকবার মেরামত করে কোনোমতে সচল রাখা হলেও বর্তমানে সেটিও সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে গ্যারেজে পড়ে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মেকানিকদের মতে, অ্যাম্বুলেন্স দুটি বর্তমানে পুরোপুরি মেরামতের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি লামা উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী আলীকদম এবং চকরিয়া উপজেলার আংশিক এলাকার মানুষের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল। হাসপাতাল সূত্র অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে বহির্বিভাগে ২৫০ থেকে ৩৫০ জন, জরুরি বিভাগে ১৫০ থেকে ২০০ জন এবং অন্তর্বিভাগে ৯০ থেকে ১০০ জন রোগী চিকিৎসাসেবা নেন।
এত বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ সামলানোর পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স সেবা পুরোপুরি বন্ধ থাকায় মুমূর্ষু রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত অন্য হাসপাতালে নেওয়া নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন স্বজনরা।
রূপসীপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা রাজিব আহমেদ বলেন, “পাহাড়ি দুর্গম এলাকা হওয়ায় জরুরি মুহূর্তে সহজে কোনো যানবাহন পাওয়া যায় না। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সচল না থাকায় সময়মতো চট্টগ্রাম বা কক্সবাজারে রোগী নেওয়া সম্ভব হয় না। এতে মুমূর্ষু রোগীদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে।”
অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. লায়েজ আহম্মদ ভূঁইয়া জানান, তিনি কর্মস্থলে যোগদানের সময়ই একটি অ্যাম্বুলেন্স পরিত্যক্ত অবস্থায় পেয়েছেন। অপর অ্যাম্বুলেন্সটিও বহুবার মেরামতের পর বর্তমানে সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা নাদিম বলেন, “অ্যাম্বুলেন্স দুটি মেরামতের অযোগ্য হয়ে পড়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেও নতুন একটি অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহের জন্য জরুরি চিঠি পাঠানো হয়েছে।”
স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের দাবি, পাহাড়ি জনপদের এই গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জরুরি ভিত্তিতে একটি নতুন অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন। দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু হলে দুর্গম এলাকার রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরের ক্ষেত্রে দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন তারা।











লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।