রুহিয়ায় পাট কর্মকর্তার নির্মাণাধীন বাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ
- আপলোডের সময় : Tuesday, August 18, 2026,

রুহিয়ায় পাট কর্মকর্তার নির্মাণাধীন বাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ
মো. আরফান আলী:
ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া থানা সংলগ্ন প্রগতিপাড়া এলাকায় অবিনাশ চন্দ্র রায় নামে এক পাট কর্মকর্তার নির্মাণাধীন বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে প্রগতিপাড়া এলাকায় ৭ শতাংশ জমি দলিলমূলে কেনেন পাট কর্মকর্তা অবিনাশ চন্দ্র রায়। সম্প্রতি সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেন তিনি। অভিযোগ, নির্মাণকাজ শুরুর পর স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া এবং বাড়ি ভাঙচুরের হুমকি দেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় রোববার দুপুরে একদল যুবক নির্মাণাধীন বাড়িতে হামলা চালিয়ে দেয়াল ও ঘরের বিভিন্ন অংশ ভাঙচুর করে। এতে প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন অবিনাশ চন্দ্র রায়।
তিনি জানান, হামলাকারীরা নির্মাণকাজে নিয়োজিত রাজমিস্ত্রিদের ভয় দেখিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাড়িয়ে দেন এবং নির্মাণাধীন অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি করেন। এ ঘটনায় তিনি ও তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান।
অবিনাশ চন্দ্র রায়ের স্ত্রী সুইটি রানি রায় বলেন, কয়েক বছর আগে তাঁরা ৭ শতাংশ জমি দলিলমূলে ক্রয় করেন। সম্প্রতি বাড়ি নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী এনে কাজ শুরু করলে আরিফ, আতিকসহ স্থানীয় কয়েকজন তাঁদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় নির্মাণকাজ বন্ধ ও বাড়ি ভাঙচুরের হুমকি দেওয়া হয়। পরে তাঁরা নির্মাণাধীন বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে হামলার সময় জিকো নামে এক ব্যক্তির কেয়ারটেকার নুর ইসলামকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগও উঠেছে। নুর ইসলাম জানান, ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল এসে অতর্কিত হামলা চালায়। তাঁর অভিযোগ, রুহিয়ার আখেরি জামাল এবং রামনাথের জয়নুল, আক্তার ও সোহরাবসহ কয়েকজন তাঁকে মারধর করে ধাক্কা দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাড়িয়ে দেন। পরে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য তাঁকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন বলে জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত জয়নুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাটিকে ‘সম্পূর্ণ ভুয়া ও বানোয়াট’ বলে দাবি করেন।
অপর অভিযুক্ত আখেরুজ্জামান বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই ঘটনাটি ঘটেছে। তাঁর দাবি, ওই জমির স্বত্ব ও মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা রয়েছে। বারবার নিষেধ করার পরও সেখানে ঘর নির্মাণ করায় তাঁদের পক্ষের লোকজন গিয়ে নির্মাণাধীন স্থাপনা ভেঙে দিয়েছে। তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
এ বিষয়ে রুহিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদিউজ্জামান জানান, ঘটনার বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী পক্ষকে লিখিত এজাহার দিতে বলা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।










