রাশিয়া সফরে ট্রাম্পের সিআইএ প্রধান, গুঞ্জন ও কৌতূহল বিশ্ব রাজনীতিতে
- আপলোডের সময় : Wednesday, August 26, 2026,

রাশিয়া সফরে ট্রাম্পের সিআইএ প্রধান, গুঞ্জন ও কৌতূহল বিশ্ব রাজনীতিতে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র পরিচালক জন র্যাটক্লিফ অঘোষিত সফরে রাশিয়ার রাজধানী মস্কো সফর করেছেন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) তিনি মস্কোয় পৌঁছান বলে বিবিসির মার্কিন সংবাদ সহযোগী সিবিএসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো শীর্ষ কর্মকর্তার এটিই প্রথম মস্কো সফর। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সরাসরি যোগাযোগ অত্যন্ত বিরল হয়ে উঠেছে।
র্যাটক্লিফ কার সঙ্গে বৈঠক করেছেন বা সফরের মূল এজেন্ডা কী ছিল, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন কিংবা মস্কোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। তবে ইউক্রেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সফরের বিষয়ে আগেই কিয়েভকে অবহিত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
ওই কর্মকর্তা জানান, মার্কিন প্রতিনিধিদল মস্কো থেকে নিরাপদে ফিরে না আসা পর্যন্ত ইউক্রেনকে সামরিক হামলা স্থগিত রাখার জন্য বিশেষ অনুরোধ করা হয়েছিল।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি সি-১৭ পরিবহন বিমান লাটভিয়ার রিগা বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে মস্কোর ভনুকোভো বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মস্কোর কেন্দ্রের দিকে একটি সুরক্ষিত কূটনৈতিক গাড়িবহর যেতে দেখা যায়। দিনভর অবস্থানের পর একই দিন বিমানটি রিগায় ফিরে যায়।
মস্কোতে দায়িত্ব পালন করা সাবেক ব্রিটিশ সামরিক অ্যাটাশে জন ফোরম্যানের মতে, আকস্মিক এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ। সম্প্রতি জার্মানিতে ড্রোন অনুপ্রবেশসহ বিভিন্ন ঘটনায় রাশিয়ার সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া রাশিয়ায় আটক মার্কিন বন্দিদের মুক্তির বিষয়টিও সফরের সম্ভাব্য আলোচ্যসূচি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। র্যাটক্লিফ অতীতেও বন্দি বিনিময়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে ইউক্রেনকে সমর্থনের অভিযোগে রাশিয়ায় আটক রুশ-মার্কিন নাগরিক ক্সেনিয়া কারেলিনার মুক্তির বিষয়টিও আলোচনায় থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত বছর আলাস্কায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনা বর্তমানে স্থবির হয়ে আছে।
এমন পরিস্থিতিতে সিআইএ প্রধানের আকস্মিক মস্কো সফর ইউক্রেন যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে নতুন কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে কৌতূহল।










