‘রাশিয়া আমাদের ধ্বংস করে দিচ্ছে’, আতঙ্কে কিয়েভের বাসিন্দারা

প্রতিনিধির নাম:
  • আপলোডের সময় : Saturday, October 3, 2026,
রাশিয়া আমাদের ধ্বংস করে দিচ্ছে’, আতঙ্কে কিয়েভের বাসিন্দারা
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।
রাশিয়া আমাদের ধ্বংস করে দিচ্ছে’, আতঙ্কে কিয়েভের বাসিন্দারা

‘রাশিয়া আমাদের ধ্বংস করে দিচ্ছে’, আতঙ্কে কিয়েভের বাসিন্দারা

জাতীয় আমার সকাল ২৪ ডেস্ক

রাশিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবন ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। স্কুল, হাসপাতাল, সেতু, বিদ্যুৎ অবকাঠামোসহ বিভিন্ন স্থাপনা এবং আবাসিক এলাকাও হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

কিয়েভের বাসিন্দা ভ্যালেরিয়া তাকাচেঙ্কো ছেলেকে স্কুলে দিতে গিয়ে বিমান হামলার সতর্কতার মুখে পড়েন। সতর্কতা জারি হলে শিক্ষকরা শিশু ও অভিভাবকদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে ছেলেকে নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা কাটাতে হয় তাকে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

ভ্যালেরিয়া বলেন, সারাদিনই ছেলেকে নিয়ে তার উদ্বেগ কাজ করে। এর আগের দিন কাছের একটি স্কুলে রুশ জেটচালিত ড্রোন আঘাত করেছিল বলেও তিনি জানান। এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবে কোনো পরিকল্পনা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তার ভাষ্য।

আরেক বাসিন্দা আর্তেম মার্চেঙ্কো শুক্রবার সকালে কাজে যাওয়ার সময় গাড়ি রেখে পিভদেনি সেতু হেঁটে পার হন। রুশ হামলায় সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাকে প্রায় ২০ মিনিট হেঁটে যেতে হয়। ডিনিপ্রো নদী কিয়েভকে দুই ভাগে বিভক্ত করায় সেতুগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে রাজধানীর যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো রাজধানীর পরিস্থিতিকে অত্যন্ত কঠিন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষ্য, এখন আর শান্তিকালীন জীবনের মতো করে চলার সুযোগ নেই। তিনি অভিযোগ করেন, রুশ হামলায় কিয়েভের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

গত কয়েক দিনে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কিয়েভের বিভিন্ন অফিস, তথ্যকেন্দ্র, স্কুল, হাসপাতাল ও একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বিদ্যুৎ অবকাঠামোতেও হামলা হয়েছে। একটি তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় হামলার পর শহরের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে।

সৌদির বিমানবন্দর ও উড়োজাহাজে হামলা, নিহত ৩ সৌদির বিমানবন্দর ও উড়োজাহাজে হামলা, নিহত ৩

এর আগে কিয়েভে জীবনযাত্রা তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকলেও খারকিভ ও দিনিপ্রোর মতো সামনের সারির শহরগুলো রুশ হামলার বড় চাপ সামলাচ্ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে সেই চাপ রাজধানীর দিকেও বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া কিয়েভের বাসিন্দাদের রাজধানী ছাড়তে বাধ্য করতে চায়। তার মতে, রাজধানীকে কেন্দ্র করে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করাও রাশিয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে।

আকাশ প্রতিরক্ষায় প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে বলে ইউক্রেনীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। একই সময়ে রাশিয়া দ্রুতগতির নতুন ধরনের জেটচালিত ড্রোন ব্যবহার করছে, যেগুলো প্রতিহত করা তুলনামূলক কঠিন বলে দাবি করা হচ্ছে।

এসব ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেন নতুন ধরনের প্রতিরোধী ড্রোন দ্রুত মোতায়েনের চেষ্টা করছে। তবে প্রয়োজনীয় মাত্রায় এগুলো ব্যবহার করতে আরও কয়েক সপ্তাহ বা মাস সময় লাগতে পারে বলে প্রতিরক্ষা খাতের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে।

ইউক্রেনের জ্বালানিমন্ত্রী ডেনিস শমিহাল ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের রাশিয়ার সম্ভাব্য বড় ধরনের হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। নিউইয়র্ক টাইমসের বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ইউক্রেনের কাছে এমন তথ্য রয়েছে যে রাশিয়া দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোয় একযোগে প্রায় এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে।

সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হিসেবে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, জলবিদ্যুৎ ও তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র এবং বয়লার হাউসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এমন হামলা হলে ইউক্রেনের শহরগুলোতে বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ ব্যাহত হয়ে মানবিক সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কিয়েভে অবস্থানরত এক পশ্চিমা কূটনীতিকের মতে, রাশিয়া কিয়েভকে এমন পরিস্থিতিতে ফেলতে চাইছে, যেখানে শহরটি দীর্ঘ সময় ঠান্ডা ও অন্ধকারের মধ্যে থাকবে। তবে পশ্চিমা কূটনীতিকেরা প্রকাশ্যে কিয়েভ ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন।

দুই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে দূতাবাসগুলো লভিভ অথবা পূর্ব পোল্যান্ডে সরিয়ে নেওয়ার জন্য কিছু দেশের পক্ষ থেকে গোপন প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

শেয়ার করুন:

লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?

মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।

একটি মন্তব্য লিখুন

আমার সকাল ২৪  ই – পেপার

এ সংক্রান্ত