যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা চীনের, ড্রোন রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণসহ নতুন নিষেধাজ্ঞা
- আপলোডের সময় : Friday, August 7, 2026,

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা চীনের, ড্রোন রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণসহ নতুন নিষেধাজ্ঞা
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত নিষেধাজ্ঞার জবাবে একাধিক পাল্টা অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ঘোষণা করেছে চীন। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ড্রোন রপ্তানিতে নতুন নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং ছয়টি মার্কিন প্রতিষ্ঠানকে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ও অন্যান্য কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খবর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের।
বুধবার চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশনের (এফসিসি) চীনা ড্রোন আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা এবং ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ৪৩টি চীনা প্রতিষ্ঠানকে উইঘুর জোরপূর্বক শ্রম প্রতিরোধ আইনের আওতায় তালিকাভুক্ত করার জবাব হিসেবেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে হওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্যের পরিপন্থী এবং এটি চীনের বৈধ অধিকার ও স্বার্থের ক্ষতি করেছে। তাই প্রয়োজনীয় পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে বেইজিং।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ড্রোন, ড্রোনের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ এবং বেসামরিক ও সামরিক উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহারযোগ্য সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে এখন থেকে প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে পর্যালোচনা করা হবে। অর্থাৎ, এসব পণ্য ও প্রযুক্তি রপ্তানিতে আগের তুলনায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হচ্ছে।
এছাড়া অ্যাপ্লাইড ডিএনএ সায়েন্সেস ইনকরপোরেটেড, হিউমান রাইটস ইন চীনসহ মোট ছয়টি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সব ধরনের বাণিজ্যিক ও অন্যান্য কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পাশাপাশি কমপ্লায়েন্স টেস্টিং এলএলসি নামে একটি মার্কিন কোম্পানিকেও চীনে ব্যবসা পরিচালনায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। চীনের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি এফসিসির সঙ্গে কাজ করে দেশটির সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার ক্ষতি করেছে।
এদিকে, আমদানি করা প্রিন্টিং সফটওয়্যার ও অফিস সরঞ্জাম জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত শুরু করেছে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবে এই তদন্তে কোন কোন কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক কিছুটা উষ্ণ হওয়ার ইঙ্গিত থাকলেও, নতুন এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে চলমান বাণিজ্য ও প্রযুক্তি বিরোধকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তি, উন্নত উৎপাদন খাত এবং নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামের ক্ষেত্রে উভয় দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।









