
জিহাদুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী-কদমতলী থানাধীন রায়েরবাগ এলাকার রওজাতুল উলুম হাফিজিয়া নুরানি মাদ্রাসার ১২ বছর বয়সী ছাত্র নাইমের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এবং তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ ও আলামতের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি পুলিশ।
নিহতের বাবা অভিযোগ করে বলেন, এর আগেও মাদ্রাসায় তার ছেলেকে একাধিকবার শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল। এমনকি পূর্বে মারধরের কারণে তার ছেলের একটি হাত ভেঙে গিয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন।
নিহতের চাচাও একটি অভিযোগ তুলে বলেন, ঘটনার পর কদমতলী থানা পুলিশ তাকে মাদ্রাসার ভেতরে নিয়ে একটি খাতায় স্বাক্ষর করতে বলে এবং এমন একটি বক্তব্যে সাক্ষী হতে চাপ দেয়, যা তিনি নিজে প্রত্যক্ষ করেননি। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নাইমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মাদ্রাসা ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। বিক্ষুব্ধ জনতা ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
কদমতলী থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাদ্রাসার দুই শিক্ষককে থানায় নেওয়া হয়েছে। তদন্তে যার সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলবে, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাইমের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবার, সহপাঠী ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ গুজব বা যাচাইবিহীন তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।