মাদারীপুরে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু: প্রাথমিকভাবে যা জানাল পুলিশ
প্রতিনিধির নাম:
আপলোডের সময় :
মঙ্গলবার, মে ১৯, ২০২৬,
মাদারীপুরে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু: প্রাথমিকভাবে যা জানাল পুলিশ
মাদারীপুরে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু: প্রাথমিকভাবে যা জানাল পুলিশ
মাদারীপুর শহরের আমিরাবাদ এলাকায় একটি ফ্ল্যাট থেকে আট মাসের শিশুসহ একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, স্ত্রীর চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে মানসিক চাপে স্ত্রীকে হত্যার পর সন্তানকে নিয়ে আত্মহত্যা করেন চিন্ময় শিকদার।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে বাংলাদেশ পুলিশ এর মাদারীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা এ তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, সদর উপজেলার পূর্ব কলাগাছিয়া এলাকার যতীন শিকদার ও তার স্ত্রী মিষ্টি বাড়ৈ প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে শহরের আমিরাবাদ এলাকায় সান্ত্বনা রানী চন্দের বাসায় ভাড়া থাকতেন। রোববার (১৭ মে) বিকেলে মিষ্টির সৎ ছেলে চিন্ময় শিকদার, তার স্ত্রী ইসরাত জাহান সাউদা ও আট মাসের কন্যাসন্তান ঢাকা থেকে সেখানে আসেন।
রাতের খাবার শেষে তারা নিজেদের কক্ষে অবস্থান নেন। দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া না পেয়ে মধ্যরাতে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন মিষ্টি বাড়ৈ। পরে সোমবার ভোরে দরজা ভেঙে শিশুসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার পর র্যাব ও পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল এর মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনার কেন্দুয়া এলাকার ইসরাত জাহান সাউদাকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন চিন্ময়। বিয়ের পর তার নাম রাখা হয় ইশা। দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছিলেন তিনি। তার চিকিৎসায় ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা ব্যয় করেন চিন্ময়, যা মেটাতে গিয়ে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন।
পুলিশের ধারণা, মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে প্রথমে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন চিন্ময়। পরে আট মাসের সন্তানকে নিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন তিনি। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পুরো ঘটনার বিস্তারিত নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।