মাদক কারবারিদের নিজস্ব ‘গোয়েন্দা টিম’, পুলিশের নজর এড়িয়ে চলত চালান
- আপলোডের সময় : Monday, August 24, 2026,

মাদক কারবারিদের নিজস্ব ‘গোয়েন্দা টিম’, পুলিশের নজর এড়িয়ে চলত চালান
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) জানিয়েছে, মাদক পাচারকারীদের একটি চক্র সীমান্ত থেকে রাজধানী পর্যন্ত মাদকের চালান পৌঁছে দিতে নিজেদের ‘গোয়েন্দা টিম’ ব্যবহার করত। চক্রের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গতিবিধি নজরদারি করে মাদকবাহী গাড়িকে নিরাপদে এগিয়ে যেতে সহায়তা করত।
ডিবির লালবাগ বিভাগ জানায়, কুমিল্লার সীমান্ত এলাকা থেকে প্রাইভেটকারে করে গাঁজার বড় চালান ঢাকায় আনা হতো। গাড়িটির কিছুটা সামনে আরেকটি গাড়িতে অবস্থান করতেন চক্রের সদস্য আমিনুল ইসলাম ওরফে মিঠু। পথে পুলিশের উপস্থিতি দেখতে পেলেই তিনি মাদকবাহী গাড়িতে সংকেত পাঠিয়ে রুট পরিবর্তনের নির্দেশ দিতেন। এ কারণে সঠিক তথ্য পাওয়ার পরও আগের কয়েকটি অভিযানে মাদকবাহী গাড়িটি আটক করা সম্ভব হয়নি।
শেষ পর্যন্ত গত ১৭ আগস্ট রাজধানীর মেয়র হানিফ উড়ালসড়দে অভিযান চালিয়ে ১০০ কেজি গাঁজাসহ একটি প্রাইভেটকার এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। গ্রেপ্তাররা হলেন রফিকুল ইসলাম ওরফে বাবু, আমিনুল ইসলাম ওরফে মিঠু এবং ওমর ফারুক। তাদের মধ্যে মিঠু চক্রের নজরদারির দায়িত্বে ছিলেন। বাবু ছিলেন গাড়িচালক এবং ফারুক মাদক পরিবহনের জন্য গাড়ি সরবরাহ করতেন।
ডিবি জানায়, চক্রটিকে ধরতে এবার কৌশল পরিবর্তন করা হয়। অভিযানে ডিবির সদস্যরা বিভিন্ন ছদ্মবেশে উড়ালসড়কে অবস্থান নেন। কেউ ভ্রাম্যমাণ বাদাম বিক্রেতা, আবার কেউ উড়ালসড়কের লেন ব্যবস্থাপনার কর্মীর ছদ্মবেশ ধারণ করেন। ফলে চক্রের নজরদারি দলের সদস্যরা ডিবির উপস্থিতি বুঝতে পারেনি।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিবির লালবাগ বিভাগের কোতোয়ালি জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার এনায়েত কবির শোয়েব। তিনি জানান, গ্রেপ্তার চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লা সীমান্ত থেকে ঢাকায় গাঁজা পাচার করে আসছিল। তারা মোবাইল ফোনে সরাসরি কথা না বলে একাধিক অ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করত।
ডিবির কর্মকর্তারা আরও জানান, গ্রেপ্তার গাড়িচালক বাবু অত্যন্ত দ্রুতগতিতে গাড়ি চালাতেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ি তাকে থামানোর চেষ্টা করলে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতেন। তার বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত একাধিক মামলার তথ্য রয়েছে।










