মহিষখোলা-বিন্নাকুলি সড়কের কাজে অগ্রগতি নেই, দুর্ভোগে দুই জেলার মানুষ
- আপলোডের সময় : Saturday, October 3, 2026,

মহিষখোলা-বিন্নাকুলি সড়কের কাজে অগ্রগতি নেই, দুর্ভোগে দুই জেলার মানুষ
বাচ্চু মিয়া
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
আমার সকাল ২৪
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বিন্নাকুলি থেকে মধ্যনগরের মহিষখোলা হয়ে নেত্রকোনার কলমাকান্দা পর্যন্ত সীমান্ত সড়কের নির্মাণকাজ দীর্ঘদিনেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দুই জেলার বাসিন্দারা। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম হওয়ায় দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি নির্মাণাধীন থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ধীরগতির কারণে কাজ আশানুরূপ এগোচ্ছে না। ফলে শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিপণ্য পরিবহনে সময় ও খরচ—দুটিই বেড়েছে। বর্ষাকালে নৌকায় এবং হেমন্তে ঝুঁকি নিয়ে মোটরসাইকেলে চলাচল করতে হচ্ছে বলে জানান তারা।
বড়ছড়া ও চারাগাঁও শুল্কস্টেশনের ব্যবসায়ীরাও দ্রুত সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন। বড়ছড়া শুল্কস্টেশন সভাপতি হাজী খসরুল আলম, তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য ডাক্তার সামছুদ্দিন, চারাগাঁও শুল্কস্টেশন সভাপতি হাজী আব্দুস সামাদ, চারাগাঁও শুল্কস্টেশন সহসভাপতি ও বিএনপি নেতা সাবেক মেম্বার সামছুল হক এবং বাগলী শুল্কস্টেশনের সভাপতি কামাল মিয়া বলেন, শুল্কস্টেশনগুলো থেকে সরকার প্রতিবছর বিপুল রাজস্ব পেলেও সীমান্ত এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি।
তাদের ভাষ্য, বর্ষাকালে নৌপথে কয়লা ও চুনাপাথর পরিবহন করা গেলেও হেমন্তে নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় নৌযান চলাচলে সমস্যা ও যানজট সৃষ্টি হয়। জাদুকাটা নদী থেকে মহিষখোলা পর্যন্ত বর্ডার সড়কের কাজ শেষ হলে বড়ছড়া থেকে মহিষখোলা হয়ে কলমাকান্দা দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পণ্য পরিবহন সহজ হবে। এতে সময় ও পরিবহন ব্যয় কমবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হামিদুল ইসলাম বলেন, “সড়কটির কারণে শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রায় ছয় মাস আগে দ্রুত কাজ শুরুর আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।”
২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান তারা মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বিভিন্ন অংশ বেহাল অবস্থায় থাকায় যাতায়াতে সময় ও ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে। তিনি মহিষখোলা থেকে জাদুকাটা নদী পর্যন্ত বর্ডার সড়কের কাজও দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান।
এদিকে, তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওর, নীলাদ্রি লেক, বারেক টিলা, যাদুকাটা নদী ও শিমুল বাগানসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকেরা আসেন। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে এসব পর্যটকদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে মহিষখোলা-বিন্নাকুলি সড়কের নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।



















লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।