মঠবাড়িয়ায় ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে স্টলসেট, তবুও বসছেন না ব্যবসায়ীরা

, স্টাফ রিপোর্টার
  • আপলোডের সময় : Thursday, October 1, 2026,
মঠবাড়িয়ায় ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে স্টলসেট, তবুও বসছেন না ব্যবসায়ীরা
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।
মঠবাড়িয়ায় ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে স্টলসেট, তবুও বসছেন না ব্যবসায়ীরা

মঠবাড়িয়ায় ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে স্টলসেট, তবুও বসছেন না ব্যবসায়ীরা

স্টাফ রিপোর্টার | মোঃ নাইম

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার দধিভাঙ্গা বাজারে কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের রোদ-বৃষ্টি থেকে সুরক্ষা এবং বাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রায় ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে একটি স্টলসেট। তবে নির্মাণের পরও সেখানে বসছেন না কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীরা। ফলে সরকারি অর্থে নির্মিত স্থাপনাটি অকার্যকর হয়ে পড়ে থাকার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি জমিতে স্টলসেটটি নির্মাণ করা হয়েছে। তবে জমির মালিকানা ও লিজসংক্রান্ত বিরোধের কারণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে এ নিয়ে অনাগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যে জায়গায় স্টলসেটটি নির্মাণ করা হয়েছে, সেটি ৫৮/৮০ ভিপি লিজ কেসের মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসায়ী মিরাজ খানের দখলে ছিল। লিজের টাকা বাংলা ১৩৮৬ সাল পর্যন্ত পরিশোধ করা থাকলেও ১৩৮৭ থেকে ১৪২৫ সাল পর্যন্ত লিজের টাকা বকেয়া ছিল। বকেয়া পরিশোধের জন্য ২০১৮ সালের ১১ ডিসেম্বর তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিপন বিশ্বাস মিরাজ খানকে নোটিশ দেন। তবে এরপর বকেয়া পরিশোধ করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

পরবর্তী সময়ে গত বছরের নভেম্বর মাসে মিরাজ খানের ভোগদখলে থাকা ওই লিজভুক্ত সম্পত্তির লিজ বাতিল করে টিকিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের নামে লিজ দেওয়া হয়। এরপর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কাঁচাবাজারের দোকানদারদের সঙ্গে আলোচনা না করেই সেখানে স্টলসেট নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

Ad served by Google দ্বারা বিজ্ঞাপন

আপনার পঠন অভ্যাস এবং সাইটের কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে এই বিজ্ঞাপনটি দেখানো হচ্ছে। এটি আমাদের সাইট পরিচালনায় সহায়তা করে।
ধন্যবাদ! আমরা এই বিজ্ঞাপনটি আপনাকে আর দেখাবো না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, টিকিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্রশাসক ও একাডেমিক সুপারভাইজার নজরুল ইসলাম এবং ইউপি সদস্য নাজমুল সাকিব শিপলুর উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রায় ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প সভাপতির মাধ্যমে কাজটি বাস্তবায়ন করা হলেও এ বিষয়ে বাজার কমিটির বৈধ রেজুলেশন ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, নির্মাণের পরও যদি স্টলসেটটি দীর্ঘদিন ব্যবহার না হয়, তাহলে সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত স্থাপনাটি অকার্যকর হয়ে পড়বে। এতে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।

মঠবাড়িয়ায় চিকিৎসাসেবার প্রচারণা নিয়ে প্রশ্ন, যাচাইয়ের দাবি মঠবাড়িয়ায় চিকিৎসাসেবার প্রচারণা নিয়ে প্রশ্ন, যাচাইয়ের দাবি

স্টলসেট নির্মাণ প্রকল্পের সভাপতি ও টিকিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. নাজমুল সাকিব শিপলু বলেন, “কাজ শেষ করার পর স্টলসেটটি বাজার কমিটির কাছে বুঝিয়ে দিয়েছি। বাজার কমিটির সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক নজরুল ইসলাম স্থানীয় গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে বাজারের দিন ব্যবসায়ীদের সেখানে বসিয়ে দেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর ব্যবসায়ীরা উঠে যান। পরের বাজারের দিনও কেউ সেখানে বসেননি। কেন বসছেন না, তা আমার জানা নেই।”

তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীরা স্টলসেটে না বসে বাজারের রাস্তার ওপর সবজি নিয়ে বসায় বাজারের দিন চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে তৎকালীন ইউপি প্রশাসক মো. নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আতাউর রাব্বি বলেন, “ব্যবসায়ীরা কেন স্টলসেটে বসছেন না, তা খতিয়ে দেখা হবে। তাদের স্টলসেটে বসানোর জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে নায়েবকে পাঠানো হবে। এতেও কাজ না হলে আমি নিজেই সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি দেখব।”

অন্যদিকে লিজ বাতিল হওয়া জমির বিষয়ে মিরাজ খান বলেন, “আমি আমার ভোগদখলে থাকা লিজভুক্ত জমি ফেরত পেতে চাই। এর আগেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার আবেদন করেছি। কিন্তু সাবেক প্রশাসক নজরুল ইসলামের খামখেয়ালির কারণে আমার অভিযোগ কোনো কাজে আসেনি।”

তবে জমির লিজ বাতিল ও পরবর্তী বরাদ্দের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথিপত্র এবং সাবেক প্রশাসকের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

এদিকে সরকারি অর্থে নির্মিত স্টলসেটটি দ্রুত কার্যকর করে বাজারের ব্যবসায়ীদের নির্ধারিত স্থানে বসানোর পাশাপাশি জমি ও লিজসংক্রান্ত বিরোধেরও দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

শেয়ার করুন:

লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?

মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।

একটি মন্তব্য লিখুন

আমার সকাল ২৪  ই – পেপার

এ সংক্রান্ত