বিলুপ্তির পথে পারকি সৈকতের ঝাউবন, কাদা-পলিতে দুর্ভোগ পর্যটকদের
- আপলোডের সময় : Wednesday, September 16, 2026,

বিলুপ্তির পথে পারকি সৈকতের ঝাউবন, কাদা-পলিতে দুর্ভোগ পর্যটকদের
নিজস্ব প্রতিবেদক
আমার সকাল ২৪
চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের আনোয়ারার পারকি সৈকতের ঐতিহ্যবাহী ঝাউবন দিন দিন ছোট হয়ে আসছে। কয়েক বছর আগেও যেখানে হাজার হাজার ঝাউগাছ দেখা যেত, সেখানে এখন অল্পসংখ্যক গাছ টিকে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ বালু উত্তোলন, সৈকতের পরিবেশের পরিবর্তন, বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা এবং বন বিভাগের পর্যাপ্ত তদারকির অভাবে ঝাউবনটি হুমকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে সৈকতে পলি ও কাদা জমে পর্যটকদের ভোগান্তিও বাড়ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সৈকতের সৌন্দর্যবর্ধক ঝাউগাছগুলোর অনেকগুলোর গোড়ার মাটি সরে গেছে। বর্তমানে অবশিষ্ট ঝাউবাগানের আয়তনও আগের তুলনায় অনেক কমে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন নতুন করে ঝাউগাছ রোপণ না করা এবং সৈকতের চর থেকে বালু উত্তোলনের কারণে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ১৯৯৩-৯৪ সালে উপকূল রক্ষায় আর্কিটেকচার পদ্ধতিতে পারকি সৈকতে প্রায় ২৩ হাজার ঝাউগাছ রোপণ করে বন বিভাগ। পরবর্তীতে ২০০২ সালে আরও একটি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৮০ হেক্টর এলাকায় ঝাউগাছ রোপণ করা হয়। গাছগুলো বড় হয়ে ওঠার পর সারি সারি ঝাউগাছ পারকি সৈকতের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়।
কর্ণফুলী নদীর মোহনা ও বঙ্গোপসাগরের বালুচর ঘিরে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় বিস্তৃত ঝাউবন দীর্ঘদিন ধরে সৈকতের সৌন্দর্য বাড়িয়ে আসছে। পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পারকি দেশের অন্যতম পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন সৈকত এলাকা থেকে বালু উত্তোলন, ঘূর্ণিঝড়, ২০১৭ সালের ঘূর্ণিঝড় মোরা চলাকালে পারকি সৈকতে আটকে পড়া ‘ক্রিস্টাল গোল্ড’ জাহাজের প্রভাব এবং বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার কারণে ঝাউবনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সাগরের ভাঙনে রায়পুর ইউনিয়নের উত্তর পরুয়াপাড়া ও গহিরা উঠান মাঝির ঘাট এলাকার ঝাউগাছও বিলীন হয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
উপকূলীয় বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সাগরের ঢেউ ও ভাঙনে উপড়ে পড়া ঝাউগাছ বিভিন্ন সময়ে টেন্ডারের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়েছে। তবে কতসংখ্যক গাছ এভাবে কাটা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট হিসাব দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী নুরুল আনোয়ার বলেন, সৈকত থেকে বিভিন্ন সময়ে বালু উত্তোলন এবং অপরিকল্পিত দোকানপাট গড়ে ওঠায় সৈকতের স্বাভাবিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বালু সরে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে পলি ও কর্দমাক্ত মাটি জমেছে। ঝাউবাগানের আয়তনও দিন দিন ছোট হয়ে আসছে। তিনি ঝাউগাছ রক্ষায় আলাদা প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানান।
চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগের আনোয়ারার দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি রেঞ্জার ও রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুনতাসির রহমান বলেন, পারকি সৈকত এলাকা থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে কতসংখ্যক ঝাউগাছ কাটা হয়েছে, তার হিসাব তার কাছে নেই। বিট কর্মকর্তার কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে দেওয়ার কথা জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সৈকতের পাশের বিশাল খাসজমিতে নতুন করে ঝাউগাছ রোপণের একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিন বলেন, ঝাউগাছ একদিকে বন্যা ও জলোচ্ছ্বাস থেকে উপকূল রক্ষায় ভূমিকা রাখে, অন্যদিকে পারকি সৈকতের সৌন্দর্যও ধরে রাখে। বন বিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে ঝাউগাছ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।