বিকট শব্দে শুধু শ্রবণশক্তি নয়, বাড়তে পারে হৃদরোগের ঝুঁকিও
- আপলোডের সময় : Friday, September 11, 2026,

বিকট শব্দে শুধু শ্রবণশক্তি নয়, বাড়তে পারে হৃদরোগের ঝুঁকিও
নিজস্ব প্রতিবেদক
আমার সকাল ২৪
স্বাস্থ্য
সামাজিক উৎসব কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উচ্চ শব্দে গান-বাজনা, লাউডস্পিকার, ঢোল-বাদ্য ও আতশবাজির ব্যবহার অনেকের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অতিরিক্ত শব্দে আশপাশের মানুষের ঘুম, কাজ ও পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটার পাশাপাশি অসুস্থ ও চিকিৎসাধীন ব্যক্তিরাও সমস্যায় পড়তে পারেন। তবে বিকট শব্দের ক্ষতি শুধু শ্রবণশক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি হৃদযন্ত্রের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভারতের পুণের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বিজয় নটরাজনের মতে, লাউডস্পিকার, ঢোল-বাদ্য, পটকা ও আতশবাজির অতিরিক্ত শব্দ শরীরে শারীরিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে প্রবীণ ব্যক্তি এবং উচ্চ রক্তচাপ, করোনারি আর্টারি ডিজিজ, হার্ট ফেইলিউর বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিরা এতে বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারেন।
চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, হঠাৎ বিকট শব্দ শরীরের স্ট্রেস প্রতিক্রিয়াকে সক্রিয় করে। এতে সিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্র ও স্ট্রেস হরমোনের কার্যক্রম বেড়ে সাময়িকভাবে রক্তচাপ, হৃদস্পন্দন এবং হৃদযন্ত্রের ওপর কাজের চাপ বাড়তে পারে।
অসুস্থদের জন্য কেন বেশি ক্ষতিকর
আগে থেকেই হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শব্দ শরীরের স্বাভাবিক স্ট্রেস প্রতিক্রিয়াকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। হঠাৎ শব্দে চমকে গেলে অ্যাড্রেনালিনের মতো স্ট্রেস হরমোন নিঃসৃত হয়। এতে সাময়িকভাবে হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে এবং হৃদযন্ত্রের অক্সিজেনের চাহিদাও বাড়ে।
ডা. বিজয় নটরাজন বলেন, গুরুতর করোনারি আর্টারি ডিজিজে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শারীরিক চাপ বুকে ব্যথা বা অন্যান্য তীব্র হৃদরোগের উপসর্গ তৈরি করতে পারে। বয়স্ক ব্যক্তিরা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারেন, কারণ তাদের উচ্চ রক্তচাপ, করোনারি আর্টারি ডিজিজ, হার্ট ফেইলিউর বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের সমস্যা থাকার সম্ভাবনা বেশি।
তবে ঝুঁকি শুধু বয়স্কদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আগে থেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, গুরুতর অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠা মানুষ কিংবা যাদের ঘুমের সমস্যা রয়েছে, তারাও অতিরিক্ত শব্দে সমস্যায় পড়তে পারেন।
হঠাৎ বিকট শব্দে বাড়ে সমস্যা
অনুষ্ঠান বা উৎসবে স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি শব্দের পাশাপাশি হঠাৎ তীব্র ও অনিয়মিত শব্দও তৈরি হয়। বিশেষ করে রাতে কিছুক্ষণ পরপর বিকট শব্দ হলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
বারবার ঘুম ভেঙে গেলে সিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্রম বেড়ে যেতে পারে এবং ঘুমের সময় স্বাভাবিকভাবে রক্তচাপ কমে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি হতে পারে। দীর্ঘ সময় বা বারবার অতিরিক্ত শব্দের সংস্পর্শে থাকলে উচ্চ রক্তচাপ, করোনারি বা ইস্কেমিক হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ার সঙ্গে এর সম্পর্ক পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
যাদের বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নেই, আগে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, গুরুতর করোনারি আর্টারি ডিজিজ, এনজাইনা, হার্ট ফেইলিউর বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের সমস্যা রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের অতিরিক্ত শব্দের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি।
এ ছাড়া সম্প্রতি হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচার হয়েছে এমন ব্যক্তি, আগে স্ট্রোক করেছেন, শারীরিকভাবে দুর্বল বয়স্ক ব্যক্তি এবং দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদেরও বিকট শব্দ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



















লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।