বাবরের দৃঢ়তায় ৪৯ বছরের অপেক্ষার অবসান, বিদেশের মাটিতে পাকিস্তানের টেস্ট জয়
- আপলোডের সময় : Friday, August 7, 2026,

বাবরের দৃঢ়তায় ৪৯ বছরের অপেক্ষার অবসান, বিদেশের মাটিতে পাকিস্তানের টেস্ট জয়
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ৮ উইকেটের দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে পাকিস্তান। ত্রিনিদাদের কুইন্স পার্ক ওভালে পাওয়া এই জয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছে বাবর আজমের দল। দীর্ঘ অপেক্ষার পর বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয়ের খরাও কাটাল পাকিস্তান।
২০২৩ সালের জুলাইয়ের পর দেশের বাইরে টেস্টে আর জয়ের দেখা পায়নি পাকিস্তান। তার ওপর প্রথম টেস্টে ৯০ রানে হেরে যাওয়ায় দ্বিতীয় ম্যাচে হারলেই হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় পড়তে হতো সফরকারীদের। তবে চাপের মুহূর্তে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচ নিজেদের করে নেয় পাকিস্তান।
দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ মাত্র ১১৭ রানে অলআউট হয়ে যায়। ফলে পাকিস্তানের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৭৫ রান। সহজ এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও শুরুটা ভালো হয়নি সফরকারীদের। দ্রুত ফিরে যান দুই ওপেনার ইমাম-উল-হক ও আজান আওয়াইস।
এরপর দলের হাল ধরেন আব্দুল্লাহ শফিক ও অধিনায়ক বাবর আজম। দুজনের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যানকে টানা দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন বাবর।
এই ম্যাচে পাকিস্তানের জয়ের অন্যতম নায়ক আব্দুল্লাহ শফিক। মূল একাদশে থাকার কথা ছিল না তার। চোটের কারণে শান মাসুদ ছিটকে গেলে গত সপ্তাহে দলে যোগ দেন তিনি। সুযোগ পেয়েই প্রথম ইনিংসে খেলেন ক্যারিয়ারসেরা ইনিংসগুলোর একটি—অপরাজিত ১৬০ রান। তার ব্যাটে ভর করেই পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে সংগ্রহ করে ৩৮৭ রান।
বল হাতে পাকিস্তানের সাফল্যের মূল কারিগর ছিলেন সাজিদ খান। দুই ইনিংসে মোট ৮ উইকেট নিয়ে তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধস নামান। দ্বিতীয় ইনিংসে আলী উসমানের সঙ্গে জুটি বেঁধে ক্যারিবীয়দের অল্প রানে গুটিয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
এই জয়ের মাধ্যমে শুধু সিরিজে সমতা ফেরানো নয়, দীর্ঘ ৪৯ বছরের এক অপেক্ষারও অবসান ঘটিয়েছে পাকিস্তান। কুইন্স পার্ক ওভালে সর্বশেষ ১৯৭৭ সালে টেস্ট জিতেছিল তারা। এরপর এই মাঠে আর কোনো জয় আসেনি। অবশেষে ২০২৬ সালে বাবর আজমের নেতৃত্বে সেই মাঠেই আবার জয়ের স্বাদ পেল পাকিস্তান।









