বান্দরবানে প্রায় ১২ কোটি টাকার টয়লেট নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ
- আপলোডের সময় : Wednesday, August 26, 2026,

বান্দরবানে প্রায় ১২ কোটি টাকার টয়লেট নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার, বান্দরবান: সুকেল তঞ্চঙ্গ্যা
বান্দরবান পৌর এলাকায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন ১ হাজার ৪০০টি টয়লেট নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়ম, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও সরকারি শিডিউল না মানার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে বান্দরবান পৌর এলাকায় ১ হাজার ৪০০টি টয়লেট নির্মাণের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের কাজ করছে ‘লাকী এন্টারপ্রাইজ’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদার হিসেবে মো. নাছির উদ্দিনের নাম জানা গেছে। প্রকল্পের কাজ তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো. সাদ্দাম হোসেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকল্পের কাজ শুরুর পর থেকেই নিম্নমানের ইট ব্যবহার, বালুর পরিবর্তে মাটি মেশানো, পুরনো রড ব্যবহার এবং সিমেন্ট ও খোয়ার পরিমাণ কমিয়ে ঢালাই দেওয়ার মতো অনিয়ম করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নির্মাণকাজে সরকারি নির্ধারিত শিডিউল ও প্রাক্কলন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ তাদের।
এ ছাড়া প্রকল্পে ব্যবহৃত ইট, বালু, সিমেন্ট, কংক্রিট ও সেফটি ট্যাংক পরিবহনের কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব শ্রমিক ব্যবহার না করে উপকারভোগীদের পরিবারের সদস্যদের দিয়ে কাজ করানোর অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা মুসলিম উদ্দিন এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা বলেছেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন প্রভাবশালী মহলের প্রভাব দেখিয়ে তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জনকল্যাণমূলক এই প্রকল্পে এমন অভিযোগ ওঠায় প্রকল্পের তদারকি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তাদের দাবি, যথাযথ তদারকি না থাকলে সরকারি অর্থের অপচয় ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়।
তবে প্রকল্পের তদারকির দায়িত্বে থাকা মো. সাদ্দাম হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নির্মাণাধীন প্রকল্পের কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম হচ্ছে না। তার উপস্থিতিতে নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন তিনি।
অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, ঠিকাদারের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে প্রকল্পের কাজে অনিয়ম ও নয়ছয় করা হচ্ছে। তবে ওই কর্মকর্তার অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রকল্পের ঠিকাদার মো. নাছির উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে ঠিকাদারের ম্যানেজার কাজল সেন বলেন, প্রকল্পের কাজে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই। কেউ যদি অনিয়মের সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ দেন, তাহলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে বলেন, তিনি সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং তার জানা মতে কোনো ধরনের অনিয়ম হচ্ছে না। তার হস্তক্ষেপে নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কাজ চলছে। তবে কোনো অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, স্থানীয় এক নারী অভিযোগ করেন, প্রকল্পের কাজে অনিয়মের বিষয়টি নির্বাহী প্রকৌশলীকে একাধিকবার জানানো হলেও দীর্ঘ এক মাসেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রকল্পের অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে নির্মাণকাজের মান যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।









