বাকেরগঞ্জে বাল্কহেডের ধাক্কায় সেতু ধস, বন্ধ চলাচল
- আপলোডের সময় : Friday, August 7, 2026,

বাকেরগঞ্জে বাল্কহেডের ধাক্কায় সেতু ধস, বন্ধ চলাচল
জিহাদ হোসেন, বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় বালুবোঝাই একটি বাল্কহেডের ধাক্কায় একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সেতু ধসে পড়েছে। এতে অন্তত পাঁচটি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষের একমাত্র যাতায়াত পথ বন্ধ হয়ে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিপণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব কাজে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বুধবার (৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চরাদী ইউনিয়নের হলতা বাজার সংলগ্ন হালকা খালের ওপর নির্মিত সেতুতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদীপথে বালু বহনকারী নিজাম ডাকুয়ার একটি বাল্কহেড সেতুর নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর মাঝের পিলারে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে পিলার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মুহূর্তের মধ্যেই সেতুর মাঝের অংশ ধসে পড়ে। দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে সেতু দিয়ে সব ধরনের যানবাহন ও মানুষের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর মাঝখানের অংশ ভেঙে নিচে নেমে গেছে। এতে চরাদী, হলতা, সন্তোষদী, মকিমাবাদ ও দক্ষিণ চরাদীসহ অন্তত পাঁচটি গ্রামের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার মানুষ এই সেতু ব্যবহার করে চরাদী বাজার, ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস এবং আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন। সেতু ধসে পড়ায় এখন তাদের দীর্ঘ বিকল্প পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে, যা সময় ও ব্যয় দুই-ই বাড়িয়ে দিয়েছে।
ছাগলদী গ্রামের বাসিন্দা মিনাক্ষী বিশ্বাস বলেন, “এই সেতুটি আমাদের এলাকার মানুষের জীবনরেখা ছিল। বাল্কহেডের বেপরোয়া চলাচল এবং নৌপথে কার্যকর নজরদারির অভাবের কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে।”
হলতা বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, সেতু ধসে পড়ার পর বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি কমে গেছে। পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তারা দ্রুত সেতুটি সংস্কার অথবা নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানান।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী হাসনাইন আহমেদ বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সেতুটি মেরামত অথবা পুনর্নির্মাণের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।”
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে কয়েকটি গ্রামের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি উৎপাদন ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। তাই জনদুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।










