বদলগাছীতে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, সচ্ছলদের নাম তালিকায়
- আপলোডের সময় : Thursday, September 3, 2026,

বদলগাছীতে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, সচ্ছলদের নাম তালিকায়
নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বালুভরা ইউনিয়নে ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পাকা বাড়ি, ফসলি জমি ও নিজস্ব মোটরসাইকেল থাকা সত্ত্বেও কয়েকটি সচ্ছল পরিবারকে ভিজিএফের চাল দেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, দুই ঈদ উপলক্ষে বালুভরা ইউনিয়নের ১ হাজার ৬৮৭টি চরম দরিদ্র ও ভূমিহীন পরিবারের জন্য ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউপি চেয়ারম্যান আল এমরান হোসেন নিয়মনীতি অনুসরণ না করে পছন্দের ও সচ্ছল ব্যক্তিদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁদপুর গ্রামের লুৎফর রহমান পেশায় রাজমিস্ত্রি ও স্থানীয় শ্রমিক দল নেতা। তার তিন বিঘা জমি, পাকা বাড়ি ও নিজস্ব মোটরসাইকেল থাকা সত্ত্বেও তার স্ত্রী মালা বেগম ভিজিএফের চাল পাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মালা বেগম বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘গত দুই ঈদে ভোটার আইডি কার্ড দেখিয়ে চাল পেয়েছি। তবে তালিকায় নাম কীভাবে এলো, তা স্বামী ভালো বলতে পারবেন।’
একই ওয়ার্ডের দোনইল গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক প্রবাসী ফেরদৌস আলী বর্তমানে ঢাকায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করেন। গ্রামে তার চার বিঘা জমি ও আধাপাকা বাড়ি রয়েছে। এরপরও তার নাম দরিদ্রদের তালিকায় রয়েছে বলে জানা গেছে। তার স্ত্রী জানান, তাদের এক আত্মীয় ইউপি কার্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তিনি চাল তুলে আনেন।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল লতিফ ও মামুন অভিযোগ করে বলেন, প্রভাবশালীদের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে সরকারি সহায়তার কার্ড পাওয়া সহজ হয়। অথচ প্রকৃত দরিদ্ররা অনেক সময় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন।
স্থানীয়দের দাবি, ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বারাতৈল, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মির্জাপুর এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম বালুভরা গ্রামের ভিজিএফ তালিকাতেও সচ্ছল ব্যক্তিদের নাম রয়েছে।
অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইদ্রিস আলী বলেন, ‘আমি ৫০টি কার্ড পেয়েছিলাম, যা প্রকৃত দরিদ্রদের মাঝে দিয়েছি। তবে লুৎফর রহমানের পরিবার বিএনপি করার সুবাদে দলীয় কোটায় ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে কার্ডটি পেয়েছে।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে ইউপি চেয়ারম্যান আল এমরান হোসেন বলেন, ‘আমরা ঈদ বোনাস হিসেবে সবাইকে চাল দিয়ে থাকি। এখানে ৪০ শতাংশ দলীয় এবং বাকি কার্ড চেয়ারম্যান-মেম্বারদের মাঝে ভাগ করা হয়। ঈদ বোনাস হিসেবে কিছু সচ্ছল পরিবারের নাম থাকতেই পারে, যা অস্বীকার করার উপায় নেই।’
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ভিজিএফ চাল বিতরণের সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। কেবল প্রকৃত অসহায় ব্যক্তিরাই এটি পাওয়ার অধিকার রাখেন। এখানে কোনো অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি হয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’










