ফুটবল খেলায় অতিথি না করায় ছাত্রদল নেতার ‘১৪৪ ধারা জারির’ মাইকিং
- আপলোডের সময় : Monday, August 24, 2026,

ফুটবল খেলায় অতিথি না করায় ছাত্রদল নেতার ‘১৪৪ ধারা জারির’ মাইকিং
নাটোরের লালপুরে একটি ঐতিহ্যবাহী ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচে অতিথি না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে নিজ উদ্যোগে মাইক ভাড়া করে ‘১৪৪ ধারা জারি হয়েছে’ বলে প্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিভ্রান্তি তৈরি হলে নিরাপত্তার স্বার্থে আয়োজকরা শেষ পর্যন্ত ফাইনাল ম্যাচটি স্থগিত করেন।
ঘটনাটি গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) উপজেলার কেশবপুর গ্রামে ঘটে। অভিযুক্ত মারুফ আলী একই গ্রামের বাসিন্দা ও লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেশবপুর গ্রামে প্রায় ৬০ বছর ধরে নিয়মিত ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন হয়ে আসছে। গ্রামের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরা এতে অংশ নেন। এবারও গত ৬ আগস্ট ছয়টি দলের অংশগ্রহণে টুর্নামেন্ট শুরু হয়। শুক্রবার ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
আয়োজক কমিটির সদস্য মাহবুব ইসলাম মিন্টু জানান, দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী গ্রামের প্রবীণদের নিয়ে আয়োজক কমিটি গঠন করে টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গ্রামের প্রবীণদের প্রধান ও বিশেষ অতিথি করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ফাইনাল ম্যাচে মারুফ আলী পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোলামকে প্রধান অতিথি এবং নিজেকে বিশেষ অতিথি করার দাবি জানান। আয়োজকরা এতে সম্মতি না দেওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হন।
এরপর শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে মারুফ আলী নিজ খরচে মাইক ভাড়া করে পুরো গ্রামে ‘খেলার মাঠে ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে’ বলে প্রচার চালান। সেখানে কাউকে জমায়েত বা খেলতে নিষেধ করা হয়। এতে গ্রামবাসীর মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হলে আয়োজকরা ফাইনাল ম্যাচ স্থগিত করেন।
গ্রামপ্রধান আজিজুর রহমান বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া কেউ ১৪৪ ধারা জারি করতে পারেন না। তাঁর দাবি, এ ধরনের প্রচার বেআইনি। তিনি ঘটনার তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
অভিযুক্ত মারুফ আলী বলেন, টুর্নামেন্টের অনুষ্ঠানে গ্রামের ছেলে হিসেবে তাকে দাওয়াত না দেওয়ায় বিষয়টি তাঁর কাছে দুঃখজনক। তবে ১৪৪ ধারা জারির বিষয়ে মাইকিং করার অভিযোগ নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রায়হান কবির সুইট বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।











লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
মন্তব্য করতে সাইন-আপ বা লগইনের প্রয়োজন নেই - সরাসরি আপনার মতামত লিখুন।