ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে কী ঘটেছিল? নতুন তথ্য দিলেন আর্জেন্টাইন সাংবাদিক
- আপলোডের সময় : Thursday, August 13, 2026,

ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে কী ঘটেছিল? নতুন তথ্য দিলেন আর্জেন্টাইন সাংবাদিক
কারচুপির গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন রেনজো পান্তিচ; চোট, ক্লান্তি ও কৌশলগত মতবিরোধেই বদলে যায় স্কালোনির পরিকল্পনা
বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পর থেকেই নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। সবচেয়ে আলোচিত গুঞ্জন ছিল, আর্জেন্টিনা নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে ম্যাচটি হেরেছে। তবে সেই বিতর্কে এবার মুখ খুলেছেন আর্জেন্টাইন সাংবাদিক রেনজো পান্তিচ। তিনি দাবি করেছেন, ম্যাচের আগে ড্রেসিংরুমে কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেনি; বরং একাধিক খেলোয়াড়ের চোট, শারীরিক ক্লান্তি এবং কৌশলগত মতবিরোধই ম্যাচ পরিকল্পনায় বড় প্রভাব ফেলেছিল।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কার প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পান্তিচ বলেন, “আমার কাছে যে তথ্য আছে, তাতে অস্বাভাবিক কিছু ঘটেনি। কারচুপির তত্ত্বে আমি বিশ্বাস করি না। আপনারা চাইলে ভেতরে আসলে কী ঘটেছিল, সেই সত্যিটাই বলি।”
পান্তিচ জানান, ম্যাচ শুরুর আগে ওয়ার্মআপের সময় তিনজন খেলোয়াড় শরীরে টান অনুভব করেন। কোচ লিওনেল স্কালোনির সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনার আগে তারা দলের চিকিৎসকদের কাছে শারীরিক সমস্যার কথা জানান। স্কালোনিও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন।
এই তিনজনের মধ্যে দুইজনের নাম নিশ্চিত করেছেন তিনি। তারা হলেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো এবং লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। পান্তিচের দাবি, পরবর্তীতে তাদের দুজনেরই চোট আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। তবে তৃতীয় খেলোয়াড়ের নাম তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। তার ধারণা, তিনি সম্ভবত মাঝমাঠের একজন ফুটবলার ছিলেন, কারণ সেই সময় আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডারদের মধ্যে ক্লান্তি স্পষ্ট ছিল।
ড্রেসিংরুমের পরিবেশ সম্পর্কে পান্তিচ বলেন, “স্কালোনি ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের সঙ্গে দীর্ঘ সময় আলোচনা করতেন। কৌশল নির্ধারণে তিনি খেলোয়াড়দের মতামতও শুনতেন। পারেদেস, ডি পল, মেসি ও দিবু মার্তিনেজের সঙ্গেও আগেও এমন আলোচনা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে টানা ম্যাচ খেলার ধকল এবং কয়েকজন খেলোয়াড়ের চোটের কারণে আর্জেন্টিনা ফাইনালে তাদের স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা থেকে সরে আসে।
পান্তিচের ভাষ্য অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা আগেই স্পেনের খেলার ধরন বিশ্লেষণ করেছিল এবং সম্ভাব্য ফাইনালের জন্য প্রস্তুতিও নিয়েছিল। কিন্তু ফাইনালে একই কৌশল প্রয়োগ করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, “স্কালোনি বুঝতে পারেন যে কয়েকজন খেলোয়াড় শারীরিকভাবে ক্লান্ত, আবার কেউ কেউ চোট নিয়েও খেলছেন। তাই তিনি আক্রমণাত্মক না গিয়ে রক্ষণাত্মক কৌশল বেছে নেন।”
এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য ছিল ম্যাচকে যতটা সম্ভব দীর্ঘায়িত করা এবং প্রয়োজনে ১২০ মিনিট পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে টাইব্রেকারে নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি করা।
পান্তিচের মতে, স্কালোনির ভয় ছিল, আর্জেন্টিনা যদি অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক খেলত, তাহলে স্পেনের পাল্টা আক্রমণে বড় ব্যবধানে হারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারত। পুরো টুর্নামেন্টে স্পেনের বিপক্ষে খুব কম গোল হয়েছিল এবং তাদের বিপক্ষে প্রতিপক্ষের শটও ছিল সীমিত।
তবে এই কৌশল নিয়ে দলের ভেতরে মতবিরোধও তৈরি হয়।
গোলরক্ষক এমিলিয়ানো ‘দিবু’ মার্তিনেজ নাকি রক্ষণাত্মক পরিকল্পনার বিরোধিতা করেন। পান্তিচের দাবি, দিবু বলেন, “না, আমি একমত নই। আমাদের আক্রমণে যেতে হবে।”
আরেকজন ফুটবলারও একই মত দেন। তিনি বলেন, “এটা বিশ্বকাপ ফাইনাল। আমাদের গোল করতে হবে। আক্রমণ করার সামর্থ্য আমাদের আছে।”
এই বিতর্কের মধ্যেই মাঠে নামার ঠিক আগে ড্রেসিংরুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে সতীর্থদের উদ্দেশে কথা বলেন লিওনেল মেসি।
পান্তিচের ভাষ্য অনুযায়ী, মেসি বলেন, “বন্ধুরা, সব ভুলে যাও। শান্ত থাকো। বল নিয়ে খেলো। আমরা রিল্যাক্স থেকে খেলব।”
রেনজো পান্তিচ শেষ পর্যন্ত দাবি করেন, ম্যাচ পরিকল্পনা নিয়ে এই আলোচনা ও মতবিরোধ হয়েছিল কৌশলগত বৈঠকের ঠিক আগমুহূর্তে। তার মতে, ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রস্তুতিতে চোট, ক্লান্তি এবং কৌশলগত বিতর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল; ইচ্ছাকৃতভাবে হারার কোনো প্রমাণ বা অস্বাভাবিক ঘটনার তথ্য তার কাছে নেই।










