পাসের হারে এগিয়ে মেয়েরা, ছেলেদের চেয়ে ১ লাখ ৭ হাজার বেশি ছাত্রী উত্তীর্ণ
- আপলোডের সময় : Monday, August 10, 2026,

পাসের হারে এগিয়ে মেয়েরা, ছেলেদের চেয়ে ১ লাখ ৭ হাজার বেশি ছাত্রী উত্তীর্ণ
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন
স্টাফ রিপোর্টার
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ বছর পরীক্ষায় পাস করেছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাসের হারে এবারও এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা। মোট উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছেলেদের তুলনায় ১ লাখ ৭ হাজার ৯৮২ জন বেশি ছাত্রী পাস করেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় একযোগে দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের ফল প্রকাশ করা হয়। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
মন্ত্রী জানান, চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ শিক্ষার্থী।
বোর্ডভিত্তিক পাসের হার
এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬৪.০৫ শতাংশ। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৫.৪৯ শতাংশ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৫৮.২০ শতাংশ।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে পাসের হার সর্বোচ্চ ৭১.৬৩ শতাংশ। এরপর যশোর বোর্ডে ৬৬.২৭ শতাংশ, কুমিল্লা বোর্ডে ৬৫.৪২ শতাংশ, রাজশাহী বোর্ডে ৬৩.৬৭ শতাংশ, বরিশাল বোর্ডে ৬০.৩৫ শতাংশ, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫৯.৪৮ শতাংশ, সিলেট বোর্ডে ৫৮.৩৩ শতাংশ, দিনাজপুর বোর্ডে ৫৮.০৫ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ৫৭.৩৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
গত বছরের তুলনায় ফল খারাপ
এবার জাতীয় গড় পাসের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৬২.২৫ শতাংশে। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৬৮.৪৫ শতাংশ। সে হিসেবে এ বছর পাসের হার কমেছে ৬.২০ শতাংশ।
একইভাবে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। ২০২৫ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী, যা এ বছর কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জনে।
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার গত বছর ছিল ৬৮.০৪ শতাংশ। এ বছর তা কমে ৬৪.০৫ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৩.৯৯ শতাংশ কমেছে।
ফল জানা যাচ্ছে যেভাবে
পরীক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট এবং মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে পারছেন। ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে eduboardresults.gov.bd এবং educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে।
এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে SSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর, এরপর স্পেস দিয়ে রোল নম্বর ও পরীক্ষার বছর লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে। উদাহরণ: SSC DHA 123456 2026। এছাড়া ১৬২২২ নম্বরেও এসএমএস পাঠিয়ে ফল জানা যাচ্ছে।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীরা Dakhil MAD 123456 2026 এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীরা SSC TEC 123456 2026 লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে ফল জানতে পারছেন।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও ফল সংগ্রহ করতে পারবেন। প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল শিট পেতে শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটের রেজাল্ট কর্নারে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের EIIN নম্বর ব্যবহার করতে হবে।
পরীক্ষার সময়সূচি
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার লিখিত অংশ শেষ হয় ২৪ মে।
এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল। এর মধ্যে সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ শিক্ষার্থী।










